কোটি টাকার জল প্রকল্প ছয় বছরেও অসম্পূর্ণ — "ফান্ড নেই" অজুহাতে দায় এড়াচ্ছে দপ্তর?

কোটি টাকার জল প্রকল্প ছয় বছরেও অসম্পূর্ণ — "ফান্ড নেই" অজুহাতে দায় এড়াচ্ছে দপ্তর?

হর ঘর জল এই স্লোগান আজ দেশজুড়ে সরকারি প্রচারে ঝলমল করছে। কিন্তু লংতরাইভ্যালী মহকুমার ছাওমনু আর ডি ব্লকের অন্তর্গত দূর্গাচড়া ভি/সি এলাকার গেদাছড়া গ্রামে সেই স্লোগান আজও নিছক কথার কথা। কোটি টাকার প্রকল্প ছয় বছরেও শেষ হয়নি আর পাহাড়ের ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ আজও ভরসা রাখছেন নদী ও ছড়ার দূষিত জলের ওপর। এদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা সাফাই দিচ্ছেন ফান্ড নেই, তাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।২০২০ সালে গেদাছড়া এলাকার দীর্ঘদিনের পানীয় জল সমস্যার সমাধানে স্থানীয় বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমার তত্ত্বাবধানে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে জল পাম্প ও ট্যাংকি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসেও সেই প্রকল্প অসম্পূর্ণ।এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য ফান্ড না থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। কিন্তু প্রশ্ন হল কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে প্রকল্প শুরু হয়েছিল, সেই অর্থ গেল কোথায়? ছয় বছরে প্রকল্প শেষ না করে এখন "ফান্ড নেই" বলে দায় এড়ানো কি গ্রহণযোগ্য?এলাকাবাসীর ক্ষোভ এখন একটাই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল, কাজও আংশিক শুরু হয়েছিল। তাহলে সেই কোটি টাকা কোন খাতে ব্যয় হল? প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকার পরও যদি প্রকল্প অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে বরাদ্দ অর্থের হিসাব কে দেবে?

দপ্তরের আধিকারিকরা ফান্ডের অভাবের কথা বলছেন বটে, কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ — সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী এজেন্সি ও দপ্তরের গাফিলতি এবং দুর্নীতির কারণেই প্রকল্প এই দশায় পৌঁছেছে। ফান্ড না থাকলে উপরমহলে জানানো হয়নি কেন? সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন?

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হল  এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানাতেও ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, কাজের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেই উপরমহল থেকে চাপ ও ধমকের মুখে পড়তে হয়। শহর থেকে আসা এজেন্সিগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করছে, অথচ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ নীরব দর্শকের ভূমিকায়। অনুন্নত পাহাড়ি এলাকার এই মানুষগুলো কি এতটাই অসহায় যে কোটি টাকার অনিয়মের বিরুদ্ধেও তারা মুখ খুলতে পারবেন না?প্রধানমন্ত্রী হর ঘর জল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন্দ্র থেকে রাজ্য সর্বত্র উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ। কিন্তু গেদাছড়ার ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ আজও নদী ও ছড়ার জল পান করে বেঁচে আছেন। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিদিন বাড়ছে। সরকারি প্রচারের জৌলুস আর প্রত্যন্ত পাহাড়ের বাস্তবতার মধ্যে এই বিস্তর ফারাকের জবাব কে দেবে?সচেতন মহলের মতে, নীচুতলার দায়িত্বজ্ঞানহীন আধিকারিক ও এজেন্সির কারণে সরকারের উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি মাটিতে মিশছে। "ফান্ড নেই" বলে দায় এড়ানো চলবে না বরং কোথায় গেল বরাদ্দ অর্থ, কেন দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ, কারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।এলাকাবাসীর দাবি বরাদ্দ অর্থের পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করতে হবে,দায়ী আধিকারিক ও এজেন্সির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে

অনতিবিলম্বে নতুন ফান্ড বরাদ্দ করে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে, গেদাছড়াবাসীর ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে হবে

কোটি টাকার প্রকল্প ছয় বছরেও শেষ না করে "ফান্ড নেই" বলা আর অপরাধ ঢাকার চেষ্টা  এ দুটো এক কথা। পাহাড়ের মানুষের অধিকার নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা আর কতদিন চলবে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ