অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঘিরে পুরনো বিরোধে নতুন উত্তেজনা, মারধরের অভিযোগে সরব কাঞ্চনপুরের এলাকাবাসী
কাঞ্চনপুর, নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমার উত্তর লক্ষীপুর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের তলপাড়া এলাকায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ফের চর্চায়। জমির মালিকানা দাবি, কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মারধরের অভিযোগ ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সমাজসেবী বিজিতা নাথ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২৬–২৭ বছর ধরে তলপাড়া এলাকায় সরকারি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু ছিল। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে এলাকার বহু শিশু শিক্ষা ও পুষ্টি পরিষেবা পেয়ে আসছিল। তবে প্রায় দুই বছর আগে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দা ধীরেন্দ্র নাথ জমিটি নিজের দাবি করে কেন্দ্রটিতে তালা লাগিয়ে দেন, যার ফলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, এত বছর ধরে কেন্দ্রটি চললেও আগে কখনো জমি নিয়ে আপত্তি ওঠেনি। ফলে হঠাৎ করে কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে সমাজসেবী বিজিতা নাথ উদ্যোগ নিয়ে নিজের বাড়ির প্রাঙ্গণে অস্থায়ীভাবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা করেন বলে জানান। বর্তমানে সেখানেই শিশুদের পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম চলছে।
বিজিতা নাথের অভিযোগ, গত ২২ মার্চ ২০২৬ বিতর্কিত জমিতে মাটি কাটার কাজ শুরু হলে তার স্বামী কৃষ্ণ কুমার নাথ সেখানে গিয়ে আপত্তি জানান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, পরে কৃষ্ণ কুমার নাথের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর কাঞ্চনপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজিতা নাথের দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ধীরেন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ জরুরি।

0 মন্তব্যসমূহ