প্রশাসনিক উদাসীনতায় অকেজো কোটি টাকার হিমাগার ক্ষোভে ফুঁসছেন গণ্ডাছড়ার কৃষকরা

প্রশাসনিক উদাসীনতায় অকেজো কোটি টাকার হিমাগার ক্ষোভে ফুঁসছেন গণ্ডাছড়ার কৃষকরা

গণ্ডাছড়া, প্রতিনিধি:কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প, দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে সচল ঘোষণা করে গেছেন তবুও তালাবদ্ধ পড়ে আছে ত্রিপুরা রাজ্যের একমাত্র সোলার চালিত কোল্ড স্টোরেজ। শুধুমাত্র একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় দিনের পর দিন অচল পড়ে থাকছে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হিমাগার। আর এই প্রশাসনিক অবহেলার মাশুল গুনছেন গণ্ডাছড়া ও রাইমা অঞ্চলের শত শত আম চাষি প্রতি মরশুমে পচে নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার ফল।গণ্ডাছড়া মহকুমার ঘাটকার্ড ডিগ্রি কলেজের পাশে নির্মিত ৪৫ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন এই অত্যাধুনিক হিমাগারটি ইতিমধ্যে নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে মহকুমা কৃষি দপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরও করা হয়েছে। দিল্লি থেকে আগত বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে সোলার সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে পরিচালনায় সম্পূর্ণ সক্ষম বলে ঘোষণা দিয়ে গেছেন। তারপরও কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নামে টালবাহানা করে এই জনগুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা আটকে রেখেছে প্রশাসন।

প্রশ্ন উঠছে  রাজ্যের মধ্যে একমাত্র এই সোলার কোল্ড স্টোরেজটি নির্মাণে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে পারলে, দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞ আনিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারলে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করে কৃষকদের হাতে তা তুলে দিতে এত মাস, এত বছর কেন লাগছে? এই দেরির দায় কে নেবে?স্থানীয় আম চাষিরা জানান, প্রতি বছর ফলন মরশুমে সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে আম বিক্রি করতে হয়, অথবা পচে নষ্ট হওয়া দেখতে হয়। গণ্ডাছড়া ও রাইমা অঞ্চলের বহু কৃষিজীবী পরিবারের জীবিকা এই আম চাষের উপর নির্ভরশীল। কোল্ড স্টোরটি চালু থাকলে কৃষকরা উৎপাদিত ফল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতার বলি হচ্ছেন এলাকার প্রান্তিক মানুষ।মহকুমা কৃষি দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় পরিচালন কর্মী নিয়োগ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হলেও কবে নাগাদ হিমাগারটি সত্যিকার অর্থে চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর মেলেনি।

এই পরিস্থিতিতে এলাকার বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র দাবি উঠেছে অবিলম্বে হিমাগারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে কৃষকদের হাতে তুলে দিতে হবে। প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাতে প্রান্তিক চাষিরাও এই পরিষেবার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।সরকারি প্রকল্পের টাকায় তৈরি হিমাগার যদি কৃষকের কাজে না লাগে, তবে সেই প্রকল্পের অর্থ কী? প্রশাসনের এই নির্লজ্জ উদাসীনতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ এখন দানা বাঁধছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ