ঘর দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নতুন মোড় অভিযোগকারীর বয়ানে চাঞ্চল্য
ধলাই জেলার ছৈলেংটা এলাকার লংতরাই পাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রণব দাসের কাছ থেকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৩,০০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বিজেপি নেতা অনুপ সরকার ও নিরু দাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠলেও সম্প্রতি অভিযোগকারী প্রণব দাস তাঁর পূর্বের বয়ান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রায় দুই বছর আগে ছৈলেংটা প্রপার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় ঘর দেওয়ার কথা বলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিও-ট্র্যাকিংয়ের কাজ করা হয়। সেই সময় প্রণব দাসের কাছ থেকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৩,০০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। প্রণব দাস দাবি করেছিলেন যে টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর কেটে গেলেও তিনি কোনো সরকারি ঘর পাননি এবং এই প্রতারণার কারণে তিনি শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছেন না। এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের একাংশ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন।
বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, অভিযুক্ত অনুপ সরকার ও নিরু দাস তড়িঘড়ি প্রণব দাসের বাড়িতে যান। এরপর প্রণব দাস একটি নতুন ভিডিও সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, তাঁকে মদ খাইয়ে রাজীব সরকার (ওরফে চিকু) নামের এক ব্যক্তি গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে তাঁর পূর্বের ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। প্রণব দাস এখন বলছেন যে, তিনি ভয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছেন এবং তাঁর পূর্বের অভিযোগ সত্য নয়। তাঁর এই নতুন বয়ান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই ঘটনার পর পুরো বিষয়টি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। একদিকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ অন্যদিকে অভিযোগকারীর বয়ান পরিবর্তন। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ এখন এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার বিষয়। অভিযুক্ত অনুপ সরকার ও নিরু দাসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ