রেশন ডিলারদের বকেয়া কমিশন নিয়ে নতুন বিতর্ক। ত্রিপুরা ন্যায্য মূল্যের দোকান পরিচালক সমিতির সদর এ.এম.সি. কমিটি মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছে, রেশন ডিলারদের প্রাপ্য কমিশন যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে এবং কমিশন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। পাশাপাশি কমিশন বকেয়া নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একাধিক ন্যায্য মূল্যের দোকান মালিকের অভিযোগ, তারা গত তিন মাস ধরে কমিশন পাননি। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলেও এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি।
প্রশ্ন উঠছে, কমিশন ছাড়া একজন রেশন ডিলার কীভাবে দোকান পরিচালনা করবেন? রেশন সামগ্রী বিতরণ, দোকানের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বিল, পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করতে হয় ডিলারদের। কমিশনই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। তিন মাস ধরে কমিশন না পাওয়ায় অনেক ডিলার আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং নিজেদের পকেট থেকে খরচ করে পরিষেবা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
যদি সত্যিই সমস্ত কমিশন পরিশোধ হয়ে থাকে, তাহলে এখনও কেন বহু ডিলার বকেয়া পাওয়ার অভিযোগ করছেন? সমিতির নেতারা কি কমিশন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন?
সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের সমস্যা ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা। ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এই বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই তাদের অভিযোগকে উপেক্ষা না করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আমরা দাবি জানাচ্ছি, রাজ্য খাদ্য দপ্তর অবিলম্বে বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করুক এবং যেসব রেশন ডিলার এখনও বিগত তিন মাসের কমিশন পাননি, তাদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করুক। ন্যায্য মূল্যের দোকান পরিচালনাকারীরা যাতে আর্থিক সংকটে না পড়েন এবং স্বাভাবিকভাবে পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

0 মন্তব্যসমূহ