গণ্ডাছড়া ডুম্বুর জলাশয়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুধু কাগজে-কলমে! নজরদারিহীন প্রশাসন, প্রশ্নের মুখে মৎস্য সুপার মদন ত্রিপুরার ভূমিকা
গণ্ডাছড়া, ৬ আগস্ট: মাছের প্রজনন বৃদ্ধির স্বার্থে প্রতি বছরের মতো এ বছরও গণ্ডাছড়া ডুম্বুর জলাশয়ে তিন মাসের জন্য মাছ ধরার উপর সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করেই কি প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ? বাস্তব চিত্র বলছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে মৎস্য দপ্তরের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ছে না।
অভিযোগ উঠেছে, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর থেকেই দায়িত্ব থেকে যেন হাত গুটিয়ে নিয়েছেন মৎস্য দপ্তরের কর্তারা। এলাকায় নেই কোনো নিয়মিত পেট্রোলিং, নেই কোনো নজরদারি ব্যবস্থা। ফলে অবাধে চলছে মাছ শিকার, যা সরাসরি ব্যাহত করছে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়াকে। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে সরকারি নির্দেশনা কি শুধু খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ থাকার জন্যই জারি করা হয়?
এই সমগ্র বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মৎস্য দপ্তরের মৎস্য সুপার মদন ত্রিপুরার ভূমিকা। অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর তিনি নিজে আরাম আয়েশে থেকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, একজন দায়িত্বশীল সরকারি আধিকারিক যদি নিজেই দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তাহলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার তদারকির দায়িত্ব কে নেবেন? শুধু ঘোষণা করেই কি তাঁর দায়ভার শেষ হয়ে যায়?
শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের মুখে মুখে মৎস্য সুপার মদন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে আরও বিস্তর অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা এখনও সম্ভব হয়নি, তবে একের পর এক অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে দায়িত্ব সারলে চলবে না, বাস্তবে তা কার্যকর করার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও পেট্রোলিং একান্ত জরুরি। অন্যথায় মাছের প্রজনন বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে বাধ্য, আর তার দায় কে নেবে? প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা কি সত্যিই কার্যকর করা হবে, নাকি প্রতি বছরের মতো এবারও তা থেকে যাবে শুধু কাগজে-কলমের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ?

0 মন্তব্যসমূহ