উদয়পুর বনদুয়ার ড্রপগেটে বনকর্মীদের দাদাগিরির অভিযোগ! গাড়ির চালককে মারধর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয় গাড়ির চাবি বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।
বনদুয়ার ড্রপগেটে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাদাগিরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, রবিবার সকালে ফুলকুমারি রাস্তা দিয়ে অমর পুরের দিকে যাওয়ার সময় একটি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে মালবাহী গাড়ির উপরের অংশx ড্রপগেটের লোহার খুঁটিতে লেগে যায়। এতে খুঁটিটি আংশিকভাবে বেঁকে যায়। ঘটনার পর বন বিভাগের কর্মকর্তা উত্তম দেববর্মা স্থানীয় যুবক শঙ্কর দাসকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ির চালককে মারধর করেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবিও কেড়ে নিয়ে তাঁকে কার্যত ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।চালক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ১,০০০ টাকা জরিমানা দিতে রাজি ছিলেন বলে জানা গেছে কিন্তু অভিযোগ, বনকর্মীরা সেই প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি। সকাল প্রায় ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত গাড়ির চাবি নিজেদের কাছেই রেখে দেন তারা। ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে পৌঁছানোর পর বন বিভাগের আধিকারিক হিমাংশু সরকারকে চালকের চাবি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও অভিযোগ, তাতেও কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উর্দ্ধত্য পূর্ণ আচরন করেন তিনি! ইউনিফর্মে ছিলো না নেম প্লেট ! পরে বিষয়টি এসডিএফও খগেন্দ্র রিয়াংয়ের নজরে আনা হলেও, অভিযোগ অনুযায়ী তিনিও কার্যকর কোনো আগ্রহ দেখাননি।শেষ পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমের হস্তক্ষেপে ঘটনাস্থলে. পৌঁছান পুলিশ! বিষয়টি আর কে পুর থানা পর্যন্ত গড়ালে বিকেলের দিকে থানার মাধ্যমে চালকের হাতে গাড়ির চাবি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে এলাকার বখাটে যুবক শঙ্কর দাসের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাকে দিয়ে গাড়ির চালককে মারধর করানোর অভিযোগ উঠছে ।প্রত্যক্দর্শীরা জানান সরকারি কাজে বহিরাগত একজন যুবককে ব্যবহার করে চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি তিনি সরকারি কর্মচারী না হন, তাহলে কোন ক্ষমতাবলে তিনি এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করলেন? প্রয়োজনে তাঁকে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জরিমানা আদায়ের দাবিও তুলেছেন এলাকাবাসীর একাংশ।অন্যদিকে, বহুদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ এই ড্রপগেট নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ, অবৈজ্ঞানিকভাবে জঞ্জালের পাশেই ড্রপগেটটি বসানো থাকায় বড় মালবাহী যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। চালকদের মতে, আধুনিক ও নিরাপদ ব্যবস্থার পরিবর্তে মান্ধাতা আমলের এই কাঠামোই বারবার দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ এদিকে নজর নেই বন বিভাগের ! স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, উদয়পুর বন বিভাগের অধীনে প্রতিনিয়ত বন উজাড়ের অভিযোগ উঠলেও সেই বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। অথচ একটি সামান্য দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে এক গাড়ি চালকের সঙ্গে কড়া আচরণ করা হয়েছে, বন সংরক্ষণে যদি তার সামান্য কিছু ও প্রয়োগ করা হতো, তাহলে হয়তো বনভূমি এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

0 মন্তব্যসমূহ