নিখোঁজ তরুণীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ স্বামীসহ দুজনের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি



নিখোঁজ তরুণীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ

স্বামীসহ দুজনের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের দাবী 
উদয়পুর প্রতিনিধি: উদয়পুর থেকে এক তরুণী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ তরুণী সোনিয়া আক্তারের মা রাজু বেগম উদয়পুর আর কে পুর মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সোনিয়ার স্বামী সোহেল পোদ্দার এবং বক্সনগরের আদমপুর এলাকার বাসিন্দা জীবন মিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে সোনামুড়া চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা সোহেল পোদ্দারের সঙ্গে সোনিয়ার সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। সোনিয়া তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে বলে দাবি পরিবারের।

রাজু বেগমের অভিযোগ, সোনিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাপের বাড়িতে জানানো হয়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা খোঁজখবর শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, সোনিয়ার নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর স্বামী দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ না করে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

পরিবারের দাবি, অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে বক্সনগরের আদমপুর এলাকার জীবন মিয়ার নাম সামনে আসে। নিখোঁজ হওয়ার আগে সোনিয়াকে ওই ব্যক্তির বাড়িতে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁর মা। পরিবারের আরও দাবি, প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে গেলে সেখান থেকে সোনিয়ার কিছু পোশাক পাওয়া যায়। প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে জীবন মিয়া সেখান থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর সোনিয়াকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পরিবার। রাজু বেগমের অভিযোগ, এ ঘটনায় তাঁর জামাই সোহেল পোদ্দার এবং জীবন মিয়া জড়িত থাকতে পারেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

রাজু বেগম আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ তারিখে সোহেল পোদ্দার ও তাঁর বড় ভাই তাঁকে উদয়পুর মহিলা থানায় নিয়ে যান। সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতিতে একটি কাগজে তাঁর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। ওই কাগজে কী লেখা ছিল বা কী কারণে তাঁর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছিল, তা তাঁকে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্বামী সোহেল পোদ্দারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জীবন মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক ও নারী পাচারের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সোনিয়াকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তিনি বাংলাদেশে পাচারের শিকার হয়েছেন কি না, কিংবা ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। সোনিয়ার পরিবার তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং তদন্তকারী পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্ত-তথ্য প্রকাশের পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ