বামুটিয়ার কালীবাজারে মানিক সরকারের কনভয় ঘিরে উত্তেজনা, মুখ খুললেন জীতেন চৌধুরী |

রবিবার বামুটিয়ার কালীবাজারে সিপিআইএম কার্যালয়ে মোহনপুর মহকুমা ডিওয়াইএফআই-এর বিভাগীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। অভিযোগ, কালীবাজার এলাকায় পৌঁছামাত্রই তাঁর গাড়ি ও কনভয় লক্ষ্য করে পথ আটকে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে বাধার খবর ছড়াতেই উপস্থিত ডিওয়াইএফআই কর্মী-সমর্থকরা তৎক্ষণাৎ রুখে দাঁড়ান এবং পাল্টা জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

কালীবাজারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এই রাজনৈতিক হেনস্থার চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জীতেন চৌধুরী। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনাই প্রমাণ করে যে শাসক দল বিজেপি আজ সাধারণ মানুষ ও জনসমর্থন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে সিপিআইএম-এর সাধারণ ঘরোয়া সাংগঠনিক সভাকেও তারা এখন মারাত্মক ভয় পেতে শুরু করেছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তোলেন বিরোধী দলনেতা। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তিনি সরাসরি রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি-র সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। কালীবাজারের ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানান তিনি। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি।

শাসক দল ও পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জীতেন চৌধুরী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং মোহনপুর মহকুমার মন্ত্রী রতনলাল নাথের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তিনি সাফ বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি যদি শাসক দলের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা থাকে, তবে মুখ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী হিসেবে রতনলাল নাথের উচিত অবিলম্বে এই ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার যেন আর কোনওভাবে পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অন্যথায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ যদি এই অবিচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে দুষ্কৃতী ও মদতদাতারা পালানোর কোনও পথ খুঁজে পাবে না।

এদিকে কালীবাজারের এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু মোহনপুর মহকুমাই নয়, গোটা রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী নামানো হয়েছে। পুলিশের দাবি পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বামুটিয়া ও কালীবাজার সংলগ্ন এলাকায় এখনও থমথমে ও চরম চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ