কাঞ্চনমালা প্রতিনিধি: বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ফের তৎপরতা দেখাল পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার শ্রীনগর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে বিয়ের আসর থেকে এক নাবালিকা কনেকে উদ্ধার করল পুলিশ। সোমবার রাতে শ্রীনগর থানা সংলগ্ন আঙ্গুলিয়াছড়া এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আঙ্গুলিয়াছড়া এলাকার বাসিন্দা শ্রীবাস সরকারের ছেলে তুষার সরকারের সঙ্গে খোয়াই জেলার কল্যাণপুর এলাকার এক নাবালিকা আত্মীয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল বলে খবর পান শ্রীনগর থানার ওসি ইন্সপেক্টর বিষ্ণু চন্দ্র দাস। খবর পাওয়ার পরই তিনি দ্বিতীয় আধিকারিক ইন্সপেক্টর নারায়ণ সেনসহ অন্যান্য পুলিশকর্মী, টিএসআর এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠান।
পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘরের এক কোণ থেকে কনের সাজে থাকা নাবালিকাকে উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, ওই রাতেই বাড়ি সংলগ্ন একটি কালীমন্দিরে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য পুরোহিতও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ধারের পর নাবালিকাকে শ্রীনগর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ওই রাতেই তাকে আগরতলার একটি ওয়ান স্টপ সেন্টারে পাঠানো হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানায় শ্রীনগর থানার পুলিশ।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে নাবালিকাকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির (CWC) সামনে হাজির করার কথা ছিল। পাশাপাশি নাবালিকার অভিভাবক, তুষার সরকার এবং তাঁর বাবা শ্রীবাস সরকারকেও ডাকার কথা জানানো হয়।
এদিকে, শ্রীনগর থানার ওসি দাবি করেছেন, বিষয়টি সম্পর্কে কল্যাণপুর থানাকে অবগত করা হলেও সেখান থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তবে এই বিষয়ে কল্যাণপুর থানার বক্তব্য জানা যায়নি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্রীনগর থানার ওসি ইন্সপেক্টর বিষ্ণু চন্দ্র দাস জানান, বাল্যবিবাহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই শ্রীনগর থানা এলাকার কোনও অভিভাবক যেন তাঁদের নাবালিকা সন্তানদের বাল্যবিবাহ না দেন। এই ধরনের কোনও তথ্য পুলিশের কাছে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি বন্ধ করতে শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাল্যবিবাহ রোধ করে শিশুদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

0 মন্তব্যসমূহ