বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাসঘাতকতার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল বিশালগড়ে। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন হরিহরদুলার যুবক রনি মিয়া।

 বিশালগড়, ২১ এপ্রিল (সোনালী ত্রিপুরা নিউজ): বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাসঘাতকতার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল বিশালগড়ে। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন হরিহরদুলার যুবক রনি মিয়া।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় মধুপুর থানাধীন হরিহরদুলা এলাকার রনি মিয়া শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিশালগড় বাজারে ফল কিনে তিনি ঘনিয়ামারা এলাকার বন্ধু আকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘনিয়ামারা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছাতেই আকাশ আরও দুই যুবক রাজু ও জয়নালের সাথে মিলে রনিকে অরবীন্দ্রনগর স্কুলের পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়।


অভিযোগ, সেখানে তিনজন মিলে রনি মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে। উদ্দেশ্য ছিল তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে যাওয়া। তার কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং এক ভরির অধিক ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। লাঠি দিয়ে পায়ে ও কোমরে প্রচণ্ড আঘাত করা হয়। জঙ্গলের ভিতরে হওয়ায় তার চিৎকার শুনে কেউ এগিয়ে আসেনি।


এরই মধ্যে রনির মোবাইলে তার বাবার ফোন আসে। বোনের জন্য ২০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা জানতে পেরে যায় অভিযুক্তরা। সেই টাকা হাতাতে তারা রনিকে বাইকে করে বিশালগড়ের দিকে নিয়ে আসে। বিশালগড়ে পৌঁছাতেই সুযোগ বুঝে রনি মিয়া চলন্ত বাইক থেকে লাফ দিয়ে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বিশালগড় থানায় আশ্রয় নেন।


সোমবার রাতেই রনি মিয়া আকাশ, রাজু ও জয়নালের বিরুদ্ধে বিশালগড় ও মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনার মূল মদতদাতা ঘনিয়ামারা এলাকার টিটু আহমেদ। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি বেড়েই চলেছে। প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ