বেপরোয়া বোলেরো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হলো সুমন দাস নামে এক যুবকের। বয়স মাত্র ২৫ বছর। বাড়ি উদয়পুরের গকুলপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায়

 বেপরোয়া বোলেরো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হলো সুমন দাস নামে এক যুবকের। বয়স মাত্র ২৫ বছর। বাড়ি উদয়পুরের গকুলপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায়।

পিতার নাম শিশু রঞ্জন দাস। সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার সময় উদয়পুর জাতীয় সড়কের পুরাতন সৎসঙ্গ ও হাউজিং বোর্ডের মাঝামাঝি স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাইকের নম্বর টিআর ০৩ এন ৫৬১৮। জানা গেছে, সুমন দাস বন্ধুর কাছ থেকে বাইকটি নিয়ে ব্রিজ কর্নার এলাকা থেকে রাজারবাগ স্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় উল্টোদিক থেকে তীব্র গতিতে আসা একটি বোলেরো গাড়ি সুমনকে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুমনের। মাথার খুলি ফেটে মগজ রাস্তার উপর ছিটিয়ে পড়ে যা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এক বীভৎস দৃশ্যের জন্ম দেয়। রক্তে লাল হয়ে যায় জাতীয় সড়কের একাংশ। দুর্ঘটনার সময় পেছন থেকে আসা এক প্রাইভেট গাড়ির চালক ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বোলেরো গাড়িটিকে ধাওয়া করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও আরকেপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তের পর দেহটি গোমতি জেলা হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদয়পুর শহর সংলগ্ন জাতীয় সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০১৭-১৮ সালে জাতীয় সড়ক ডাবল লেন হওয়ার পর থেকে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে আগরতলা - উদয়পুর রাস্তায় দ্রুতগতির গাড়ি চালনা ও যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমান যানবাহনের চাপ সামলাতে অতিসত্বর প্রস্তাবিত চারলেন সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু করা উচিত। না হলে দুর্ঘটনার হার আরও বাড়বে। বিকেলের পর থেকেই আগরতলা থেকে উদয়পুর ও বিপরীত দিক থেকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। একদিকে মানুষের দুর্ভোগ, অন্যদিকেপ্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। মাত্র ২৫ বছরের সুমন দাসের অকালমৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বন্ধুর কাছ থেকে বাইকটি চেয়েনিয়েছিল সুমন, সে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাইকটি দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ চুরমার হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় সুমনের মাথায় হেলমেট ছিল। কিন্তু বোলেরোর ধাক্কা এতটাই জোরালো ছিল যে হেলমেটসহ খুলি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের অংশ রাস্তায় ছিটকে পড়ে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা কার‍্যত ভেঙে পড়েছে। জাতীয় সড়কে ট্রাফিক পুলিশের টহল দেখা যায় না, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর। বেপরোয়া গাড়ি চালনা ও বাইকের দাপটে রাস্তাঘাট আতঙ্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠছে, ট্রাফিক পুলিশ মূলত জরিমানা আদায়ে ব্যস্ত, কিন্তু সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন। জাতীয় সড়ক সংস্কারের পর ট্রাফিক শেডগুলিও আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। সব মিলিয়ে উদয়পুর শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এখন কার‍্যত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। জানা গেছে, সুমন দাসের মৃত্যুর কিছুদিন আগেই তার পরিবারের আরেক সদস্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ