নারিকেল কুঞ্জে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনের বৈঠক

 নারিকেল কুঞ্জে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনের বৈঠক




তদন্ত নিয়ে উঠছে নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন


আমাদের খবরের জেরে ত্রিপুরার গন্ডাছড়া মহকুমার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নারিকেল কুঞ্জে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। শুক্রবার নারিকেল কুঞ্জ পর্যটন এলাকায় নৌকার মালিক, স্থানীয় সমিতি ও হোমস্টে মালিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করা হয়। সভার মূল লক্ষ্য ছিল পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য একটি ঝামেলামুক্ত ও আনন্দদায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা।


এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গন্ডাছড়া মহকুমা শাসক চন্দ্রজয় রিয়াং, বিধায়িকা নন্দিতা দেববর্মা রিয়াং, SDPO সৌগত চাকমা, রইস্যাবাড়ি থানার ওসি চৈতন্য রিয়াং সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি নারিকেল কুঞ্জ পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। গত ১ জানুয়ারি উপ-মুখ্যমন্ত্রী (DCM) দিলীপ দেববর্মা ও তাঁর চালকের উপর হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।


স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নারিকেল কুঞ্জ এলাকায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। অন্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের সেখানে ব্যবসা করার অধিকার কার্যত খর্ব করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ বেচাকেনা, সীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ বসবাস নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।


এছাড়াও পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নৌকা ভাড়া আদায়, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লাইফ জ্যাকেটের অভাব—সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে নারিকেল কুঞ্জ এখন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।


এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসন সক্রিয় হয়। সূত্রের খবর, সংবাদ প্রকাশের পর মহকুমা শাসক SDPO-কে ডেকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।


তবে আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর ঘটনার পরেও DCM আক্রান্তের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের হয়নি, কিংবা কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে।


এখন প্রশ্ন একটাই—

প্রশাসনের এই উদ্যোগ কি শুধুই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই নারিকেল কুঞ্জে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কোনও কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে?


সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই তার উত্তর মিলবে বলে অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ