গন্ডাছড়ায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব: নারিকেল কুঞ্জে আক্রান্ত ডিসিএম ও চালক, নেপথ্যে কি অবৈধ কারবার বিরোধী অভিযান?
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম রাতেই রক্তারক্তি কাণ্ড ত্রিপুরার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নারিকেল কুঞ্জে। ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হলেন গন্ডাছড়া মহকুমা শাসক (SDM) দপ্তরের ডিসিএম দিলীপ দেববর্মা এবং তাঁর গাড়ির চালক সঞ্জিত রিয়াং। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা মহকুমায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্রের খবর, ১লা জানুয়ারি রাতে নারিকেল কুঞ্জ থেকে ফেরার পথে রাস্তায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনা দেখতে পেয়ে মানবিকতার খাতিরে ডিসিএম-এর চালক সঞ্জিত রিয়াং গাড়ি থামিয়ে নিচে নামেন। অভিযোগ, সেই মুহূর্তেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল উন্মত্ত দুষ্কৃতী লোহার রড নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সঞ্জিত রিয়াংয়ের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হলে তাঁর মাথা ফেটে যায়। হাসপাতালে তাঁর মাথায় চারটি সেলাই পড়েছে বলে জানা গেছে। দুষ্কৃতীরা ডিসিএম দিলীপ দেববর্মার গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং তাঁকেও শারীরিক লাঞ্ছনা ও হেনস্থা করা হয়। উক্ত ঘটনায় মুখ খুলতে নারাজ DCM এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর,
ঘটনাটি সাধারণ গোলমাল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চললেও, অনুসন্ধানে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, কয়েকদিন আগেই ডিসিএম দিলীপ দেববর্মা নারিকেল কুঞ্জ এলাকার কিছু দোকানে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছিলেন। সেই অভিযানে দোকানগুলি থেকে প্রচুর পরিমাণে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য এবং অবৈধভাবে আনা বাংলাদেশি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে একদল অসাধু ব্যবসায়ী ও তাদের মদতদাতারা ক্ষুব্ধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। যদিও প্রশাসনের একটি অংশ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নারিকেল কুঞ্জ ও জাতিগত রাজনীতির সমীকরণ
নারিকেল কুঞ্জ পর্যটন কেন্দ্রটি বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয় মহলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেখানে অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর মানুষের ব্যবসা করার অধিকার কার্যত নেই। উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে তিপ্রা মথার এক নেতার বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে ককবরক ভাষা না জানা ব্যক্তিদের ‘বাংলাদেশি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছিল। যদিও দলগতভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই ভিডিওতেই নারিকেল কুঞ্জে বাংলাদেশীদের বসবাস ও বাংলাদেশি পণ্যের রমরমা ব্যবসার প্রমাণ মিলেছিল।
গন্ডাছড়া মহকুমা জুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বসবাস এখন এক ‘ওপেন সিক্রেট’। অভিযোগ রয়েছে, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই জ্বলন্ত ইস্যুটি এড়িয়ে যেতে চায়। একজন পদস্থ সরকারি আধিকারিক যখন কর্তব্য পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হন, তখন এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটিই প্রকট হয়ে ওঠে।
এই হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

0 মন্তব্যসমূহ