গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে কমিশন বাণিজ্য! গরিব জনজাতিদের জিম্মি করে ব্যবসা এক চিকিৎসকের, প্রশাসন নীরব কেন?
গন্ডাছড়া, ১৩ জুলাই: গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে উঠে আসছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, উক্ত চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কমিশন বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায়, দরিদ্র জনজাতি রোগীদের সাধারণ অসুখেও লিখে দিচ্ছেন ব্যয়বহুল বিভিন্ন টেস্ট। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব মানুষরা দামি দামি পরীক্ষা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন, শেষমেশ ওষুধ কেনার টাকাটুকুও তাদের হাতে থাকছে না।
অভিযোগ অনুসারে, কিছুদিন আগে মাত্র আট থেকে নয় মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে শিং মাছের কাঁটা লাগলে তাকে একাধিক এক্সরে করানোর নির্দেশ দেন উক্ত চিকিৎসক। শুধু তাই নয়, এক জৈনক ব্যক্তি সাধারণ ফোড়ার চিকিৎসা করাতে গেলে তাকেও ব্যয়বহুল এক্সরে করানোর পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, একটি সাধারণ ফোড়ার চিকিৎসায় এক্সরের প্রয়োজনীয়তা আদৌ কতটা? এভাবে কি জনজাতি রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ব্যবসা চালানো হচ্ছে না?
অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, উক্ত চিকিৎসক নিজের ইচ্ছেমতো নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লিখে দেন রোগীদের, যা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও প্রশ্ন। এলাকাবাসীর বক্তব্য, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে ততটা ওয়াকিবহাল নন বলেই কি তাদের সরলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে?
এখানেই শেষ নয়, উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ে ডিউটি না করারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ডিউটি আওয়ারে হাসপাতালে ঠিকমতো উপস্থিত না থেকে তিনি প্রায়শই প্রাইভেট প্র্যাকটিসের উদ্দেশ্যে অন্যত্র চলে যান, যার ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় সাধারণ রোগীদের। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত থেকেও কীভাবে একজন চিকিৎসক নিয়মিত ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারেন? এক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?
এই সমস্ত অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ইতিমধ্যে মহকুমা শাসকের নজরে এসেছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পরেও পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টো সাধারণ রোগীদের হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন ওই চিকিৎসক, এমনটাই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্রশ্ন উঠছে, সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসন কেন এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি? গরিব, অসহায় জনজাতি মানুষদের স্বাস্থ্যের অধিকার কি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের স্পষ্ট দাবি, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশই তলানিতে গিয়ে ঠেকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্যসমূহ