রহস্য ও দুর্ঘটনার নাম ডুম্বুর! কখনো অঘটন, কখনো অপরাধের আস্তানা একের পর এক সলিলসমাধিতে আতঙ্কিত গণ্ডাছড়া

রহস্য ও দুর্ঘটনার নাম ডুম্বুর! কখনো অঘটন, কখনো অপরাধের আস্তানা একের পর এক সলিলসমাধিতে আতঙ্কিত গণ্ডাছড়া

গণ্ডাছড়া: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার হিসেবে পরিচিত ডুম্বুর জলাশয় যেন ইদানীং এক গভীর আতঙ্ক ও ধোঁয়াশার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর সামনে আসায় চরম চাঞ্চল্য ছড়াচ্ছে গোটা গণ্ডাছড়া মহকুমায়। জলমগ্ন এই সুবিশাল এলাকার নির্জনতা একদিকে যেমন কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ, অন্যদিকে অপরাধীরাও নিজেদের অপরাধ ঢাকা দিতে এই জলাশয়কেই বেছে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ মর্মান্তিক সংযোজন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী জীবন চৌধুরীর মৃত্যু। বিশ্বকর্মা পূজার রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও প্রশাসনের চিরুনি তল্লাশি সত্ত্বেও তাঁর হদিস মেলেনি। শেষে রবিবার সকালে জলাশয়ে আপনাআপনি ভেসে ওঠে তাঁর নিথর দেহ। যে স্থান থেকে তাঁর মোবাইল, স্কুটি ও জুতো উদ্ধার হয়েছিল, দেহ মেলে তার চেয়ে কিছুটা দূরে, কম গভীরতার জলে। নিখোঁজের রাতে তাঁর সাথে থাকা অশনাক্ত ২-৩ জন ব্যক্তির উপস্থিতি ঘটনাটিকে ঘিরে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ আরো জোরালো করে তুলেছে।

তবে ডুম্বুর জলাশয়ে এ ধরনের মৃত্যু ও দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন থেকে শুরু করে পরিকল্পিত অপরাধ—বারবার শিরোনামে এসেছে  খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, এই ডুম্বুর জলাশয়ে জলে ডুবে প্রাণ হারাতে হয়েছিল এক তরুণ আইটিআই (ITI) ছাত্রকে। জলাশয়ে নৌকা করে যাওয়ার সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় দাদুর সাথে থাকা এক যুবক জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। কিছুদিন আগে ডুম্বুর জলাশয় সংলগ্ন সাইমা নদীর জলে উদ্ধার হয়েছিল এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ। অপরাধীরা যাতে দেহটি ভেসে না ওঠে, সেজন্য তার দেহের সাথে ইট বেঁধে ডুবিয়ে দিয়েছিল। আজ পর্যন্ত সেই মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত কিংবা রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। বহু আগে ডুম্বুর জলাশয়েই এক মা ও মেয়েকে হত্যা করে অপরাধীরা তাঁদের দেহ বস্তা বেঁধে জলে ডুবিয়ে দিয়েছিল। যদিও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বামী স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ,সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি আজও এলাকার মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ডুম্বুর জলাশয় একদিকে যেমন অসাবধানতা ও দুর্ঘটনার কারণে একের পর এক তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে দুষ্কৃতীরা তাঁদের অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে এই বিশাল জলাশয়ের জলকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে।

একদিকে পরপর অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, অন্যদিকে রহস্যময় হত্যাকাণ্ড সব মিলিয়ে আতঙ্কের প্রহর গুণছেন গণ্ডাছড়াবাসী। পুলিশ প্রশাসন কি পারবে ডুম্বুরকে ঘিরে ঘনীভূত এই সমস্ত রহস্যের পর্দা উন্মোচন করতে এবং জলাশয় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে? এখন এটাই সময়ের বড় প্রশ্ন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ