গাঁজা নিধনে শক্তিহীন হয়ে পড়ল সোনামুড়া থানা।
অন্যান্য বছরের তুলনায় বিশেষ করে এই বছর রাজ্য পুলিশ এবং সিপাহীজলা জেলা পুলিশের নির্দেশে সিপাহীজলা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ব্যাপক হারে অবৈধ গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে গাঁজা ধ্বংসে এই জেলার কলমচৌড়া থানার পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নচিহ্নের মুখে থাকলে গত কিছুদিন আগে বিভিন্ন সংবাদ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় আর এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর রাজ্য পুলিশ এবং সিপাহীজলা জেলা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব সূত্রধরের নেতৃত্বে সোনামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শশীমোহন দেববর্মা সহ যৌথবাহিনীর বিশাল সংখ্যক ফোর্স বক্সনগর ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের দক্ষিণ প্রান্তে সহ আইটিআই কলেজ সংলগ্ন এলাকা এবং বাগবেড় এলাকার গাঁজা বাগান ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে এই বছর সুনামুরা থানার পুলিশ ও গাঁজা বাগান ধ্বংসের তৎপরতা দেখিয়েছিল কিন্তু বর্তমানে গাজা বাগান ধ্বংস অভিযান থেকে সোনামুড়া থানার পুলিশ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সূত্র অনুসারে জানা গেছে সোনামুড়া থানার অন্তর্গত কমলনগর ঘাঁটিঘর দুই লুঙ্গা এলাকায় কয়েক লক্ষাদিক গাজা গাছ এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কিন্তু সোনামুড়া থানার পুলিশ একবারের জন্যও দুই লুঙ্গা এলাকার গাঁজা গাছগুলি কেটে ধ্বংস করার দরকার বলে মনে করেননি। যদিও এই বছর সোনামুড়া থানার ওসি তাপস দাস নিজ থানা এলাকার সীমানা পেরিয়ে কলমচৌড়া, বিশালগড় এবং বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকাগুলির গাঁজা বাগান ধ্বংস করার দুঃসাহস দেখিয়েছিল কিন্তু নিজ থানা এলাকার দুই লুঙ্গার গাজা গাছগুলি কেটে ধ্বংস করার দুঃসাহস দেখাতে পারেনি। আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা, আর কিছুদিন পরেই গাঁজা চাষিরা গাঁজা গাছ থেকে গাজা সংগ্রহ করে ঘরে নিয়ে যাবে, সেই অপেক্ষায় এখন গাঁজা চাষিরা। সূত্রের খবর দুই লুঙ্গা এলাকার কয়েক লক্ষ গাঁজা গাছের রফা হিসাবে একাংশ পুলিশ, প্রভাবশালীন নেতা বাবু থেকে শুরু করে একাংশ বনদপ্তরের কর্মীদের খুশি করতে প্রতিটি গাঁজা গাছ পিছু চল্লিশ টাকা করে ওই এলাকার রফা কমিটি রফা তুলে নিয়েছে। যদিও রফার এই কয়েক কোটি টাকা বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হবে। দুই লুঙ্গা এলাকার গাঁজা বাগান রফা কমিটির প্রধান দুইকর্তা এসাক এবং জুয়েল সর্বপ্রথম তাদের নিজেদের পকেট ভারি করার পরেই বাকি রফার টাকাগুলি কিছু পুলিশ, বনদপ্তরের কিছু কর্মী এবং প্রভাবশালী কিছু নেতাদের ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া হবে। দুই লুঙ্গার এই গোপন রফার কথা হয়তো বেশ ভালোভাবেই জানেন সোনামুড়া থানার ওসির তাপস দাস। নিজের একাংশ সহকর্মী অর্থাৎ সোনামুড়া থানার একাংশ পুলিশ কর্মীদের মুখের সব সময় হাসি দেখার জন্যই কি তাহলে দুই লুঙ্গা এলাকায় গড়ে ওঠা কয়েক লক্ষাদিক গাঁজা গাছ ধ্বংস করা থেকে পিছু হটলেন সোনামুড়া থানার ওসি সাহেব। কমলনগর ঘাঁটিঘর দুই লুঙ্গা এলাকার গাঁজা বাগান গুলি বাদে অন্যান্য জায়গার গাঁজা বাগান প্রায় ধ্বংস করেছে পুলিশ। এভাবে দুই লুঙ্গা এলাকার গাজা বাগান অক্ষত অবস্থায় রেখে সোনামুড়া থানার পুলিশ নিজেদের কর্ম দক্ষতার সম্মান নষ্ট করতে চলেছে পাশাপাশি মানুষের মনে বিশ্বাস জাগাতে চাইছে মোটা অংকের টাকা মিললেই অবৈধ গাঁজা বাগান রক্ষা করা সম্ভব। কমলনগর এলাকার সচেতন সম্পন্ন ব্যক্তিরা রাজ্য পুলিশ এবং সিপাহীজলা জেলা পুলিশের নিকট দাবী জানাচ্ছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যেন রাজ্য পুলিশ এবং সিপাহী জেলার জেলা পুলিশ দুই লুঙ্গা এলাকার কয়েক লক্ষাদিক গাঁজা গাছগুলি কেটে ধ্বংস করে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুইলঙ্গা এলাকার রফা কমিটির দুই প্রধান কর্তা এসাক এবং জুয়েলের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ যেন গ্রহণ করে।

0 মন্তব্যসমূহ