পানীয় জলের দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক গিরাচন্দ্র পাড়ায়, প্রশ্নের মুখে দশকের পর দশকের শাসন
ভোট আসে, ভোট যায় — বাম আমল গেছে, রাম আমল এসেছে। কিন্তু গন্ডাছড়া মহকুমার গিরাচন্দ্র পাড়ার ১২৭টি পরিবারের কপালে এখনও জোটেনি একফোঁটা বিশুদ্ধ পানীয় জল। এডিসি নির্বাচনের দামামা বাজছে চারদিকে — কেউ বলছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে ভোট দিন, কেউ উন্নয়নের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। কিন্তু পাহাড়ের এই প্রান্তিক জনজাতি পরিবারগুলির একটাই প্রশ্ন — কোন উন্নয়নের কথা বলছেন আপনারা?
দীর্ঘ বছর ধরে ছড়ার জল পান করেই বেঁচে আছেন গিরাচন্দ্র পাড়ার বাসিন্দারা। পাইপলাইন নেই, টিউবওয়েল নেই, সরকারি পানীয় জল সরবরাহের কোনও ব্যবস্থাই নেই। বর্ষায় ঘোলা জল, শীতে শুকিয়ে যাওয়া ছড়া — এই নিয়েই চলছে ১২৭টি পরিবারের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রাম। আর এই দূষিত ছড়ার জল পান করে বছরের পর বছর ধরে জলবাহিত রোগে ভুগছেন পাড়ার মানুষ।
সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি ২০১৪ সালের। সেবার ম্যালেরিয়ার প্রকোপে একের পর এক প্রাণ ঝরে গিয়েছিল গিরাচন্দ্র পাড়ায়। সেই মৃত্যুমিছিলও কি শাসকদের টনক নড়াতে পারেনি? বাম আমলেও নয়, বর্তমান আমলেও নয়। এই প্রশ্নের উত্তর কার কাছে?
এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে পাড়ার মানুষের। এডিসি নির্বাচনে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের সাফ কথা — আগে পানীয় জল, তারপর ভোট। যে সরকার দশকের পর দশক ধরে বিশুদ্ধ পানীয় জলটুকু দিতে পারেনি, তাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসানোর কোনো কারণ তাঁরা দেখছেন না।
প্রশ্নটা আজ সমগ্র পাহাড়ের। কত নির্বাচন এলো, কত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলো — কিন্তু গিরাচন্দ্র পাড়ার মতো প্রত্যন্ত জনজাতি এলাকাগুলিতে পৌঁছাল না উন্নয়নের আলো। এই ব্যর্থতার দায় কি শুধু একটি দলের? নাকি এটি দশকের পর দশক ধরে চলা সামগ্রিক রাজনৈতিক উদাসীনতার ফল?
গিরাচন্দ্র পাড়ার মানুষ আর কোনো প্রতিশ্রুতি শুনতে রাজি নন। তাঁরা চান কাজ — শুধু একটাই কাজ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা। নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দাবি পূরণ করবেন কিনা, সেটাই এখন দেখার।

0 মন্তব্যসমূহ