ত্রিপুরা এডিসি নির্বাচন ৮ গঙ্গানগর গণ্ডাছড়া ও ২৪রাইমাভ্যালিতে ধরাশায়ী বিজেপি, পাহাড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য তিপ্রা মথার
ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (TTAADC) নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশেষ করে ৮-গঙ্গানগর-গণ্ডাছড়া এবং ২৪-রাইমা ভ্যালি—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপির পরাজয় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
গঙ্গানগর-গণ্ডাছড়ার নির্বাচনী চিত্র,
৮-গঙ্গানগর-গণ্ডাছড়া (ST) কেন্দ্রে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২৫,২০০টি। এখানে তিপ্রা মথা প্রার্থী খত্রজয় রিয়াং ১১,২৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী ভূমিকা ননন্দ রিয়াং পেয়েছেন ৯,২৯৪ ভোট। জয়ের ব্যবধান ১,৯৭০ ভোট। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট (CPIM) প্রার্থী ধানচামণি রিয়াং ২,৯২৫ ভোট, আইপিএফটি-র কানন্দি রিয়াং ৯৯৩ ভোট এবং কংগ্রেসের দিনা রাম রিয়াং মাত্র ৪৪৭ ভোট পেয়েছেন। নোটায় ভোট পড়েছে ২৭৭টি।
রাইমা ভ্যালির ভোটের হিসাব
২৪-রাইমা ভ্যালি (ST) কেন্দ্রে মোট ২৮,২২২টি বৈধ ভোটের মধ্যে তিপ্রা মথার ধনঞ্জয় ত্রিপুরা ১১,০৬৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। বিজেপি প্রার্থী সমীর রঞ্জন ত্রিপুরা ৯,৬৫৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। জয়ের ব্যবধান ১,৪১১ ভোট। এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের সুমতি রঞ্জন চাকমা ৪,৭৮৮ ভোট, আইপিএফটি-র চরণ বাসি ত্রিপুরা ২,০৭০ ভোট এবং কংগ্রেসের সুরেশ ত্রিপুরা ৩৭৩ ভোট পেয়েছেন। এখানে ২৭২ জন ভোটার নোটা ব্যবহার করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় আঞ্চলিক দল তিপ্রা মথা শক্তিশালী হলেও এবার অ-উপজাতি ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় উন্নয়নমূলক প্রচারকে ছাপিয়ে এখানে স্থানীয় সমস্যা যেমন—ভূমি অধিকার, বনাধিকার, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির প্রশ্নগুলোই প্রধান হয়ে উঠেছে। এই জয়ের পেছনে প্রাক্তন ইএম রাজেশ ত্রিপুরা এবং বিদায়িকা নন্দিতা দেববর্মা রিয়াংয়ের সক্রিয় প্রচার ও মাঠপর্যায়ের রণকৌশল বিশেষ কাজ করেছে। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস দুর্বল থাকায় বিজেপি বিরোধী ভোট কাটাকাটি না হয়ে সরাসরি তিপ্রা মথার বাক্সে জমা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক শিথিলতা পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে। এডিসির ২৮টি আসনের মধ্যে তিপ্রা মথা একাই ২৪টি আসন দখল করেছে, যার মধ্যে একটি সাধারণ আসনও রয়েছে। বিপরীতে বিজেপি মাত্র ৪টি আসনে সীমাবদ্ধ। এই ফলাফল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ত্রিপুরার পাহাড়ে তিপ্রা মথা এখন একচ্ছত্র শক্তিশালী শক্তি। অ-উপজাতি ভোটারদের মধ্যেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি বিজেপির জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি তিপ্রা মথার জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক মাইলফলক। আগামীর দিনগুলোতে এই ধারা ত্রিপুরার মূল রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
0 মন্তব্যসমূহ