কাঠালিয়া ব্লকে বানরের দাপট: অতিষ্ঠ সীমান্তবর্তী গ্রামবাসী, ক্ষোভ বনদপ্তরের বিরুদ্ধে

কাঠালিয়া ব্লকে বানরের দাপট: অতিষ্ঠ সীমান্তবর্তী গ্রামবাসী, ক্ষোভ বনদপ্তরের বিরুদ্ধে

সোনামুড়া মহকুমার দক্ষিণাঞ্চলের কাঠালিয়া ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে বানরের উপদ্রবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন সকাল-বিকেল দল বেঁধে হিংস্র বানরের আনাগোনা চলছে, যা এখন স্থানীয়দের কাছে এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু বসতবাড়ি নয়—কৃষিজমিতেও ব্যাপক ক্ষতি করছে বানরের দল। খাদ্যের সন্ধানে তারা বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে, নষ্ট করছে সবজি ও ফসল। বোরো ধানের শীষ পর্যন্ত তুলে খেয়ে ফেলছে, ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।

সংবাদকর্মীর কাছে নিজেদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছেন কালী কৃষ্ণনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজেন্দ্রটিলা গ্রামের একাধিক কৃষক। একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে ভবানীপুর, নিদয়া, দক্ষিণ মহেশপুর, উত্তর মহেশপুরসহ আশেপাশের বহু গ্রামে।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, বিগত কয়েক বছর ধরে এই সমস্যা চললেও বনদপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। কাঠালিয়া রেঞ্জ অফিসে কর্মী থাকা সত্ত্বেও বারবার জানিয়েও মিলছে না সন্তোষজনক উত্তর। অথচ পূর্বে বানরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো বলে জানান স্থানীয়রা।

বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেক পরিবার আর বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করতেও সাহস পাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজেন্দ্রটিলা গ্রামের পরিবারগুলো।

এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বহু পরিবার এখন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে—আর কতদিন এইভাবে বানরের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে থাকতে হবে কাঠালিয়া ব্লকের মানুষকে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ