পানীয় জলের তীব্র সংকটের জেরে বিলোনিয়া মহকুমার পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাইছড়া বীণাপাণি ক্লাব এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হলেন এলাকাবাসী

পানীয় জলের তীব্র সংকটের জেরে বিলোনিয়া মহকুমার পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাইছড়া বীণাপাণি ক্লাব এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হলেন এলাকাবাসী! 


প্রায় ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পানীয় জল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গাড়িতে করে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর দাবি, শুরুতে কিছুদিন গাড়িতে জল সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সেটাও প্রায় বন্ধের মুখে। ফলে দৈনন্দিন জীবনে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। পানীয় জল সংগ্রহ করতে বহু দূর যেতে হচ্ছে, যা নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে কষ্টকর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।

এই পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষ কলসি, বালতি হাতে নিয়ে বিলোনিয়া-শান্তিরবাজার সড়ক অবরোধ করে বসেন। ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় যানজটের। অবরোধকারীদের অভিযোগ, পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এতদিন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি সমস্যার গুরুত্ব বোঝার জন্য পঞ্চায়েতের কোনো প্রতিনিধি এলাকায় এসে বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেননি বলেও অভিযোগ ওঠে।

অবরোধ শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর পঞ্চায়েত প্রধান সহদেব দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, যতদিন না স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততদিন নিয়মিতভাবে গাড়িতে করে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। তার এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তবে অবরোধকারীরা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সময়মতো ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জল না দেওয়া হয়, তাহলে তারা আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন। তাদের দাবি, শুধু সাময়িক সমাধান নয়, স্থায়ী সমাধান দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি এলাকাবাসী আরও দাবি তুলেছেন যে, তাদের এলাকায় একটি পৃথক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হোক। কারণ বর্তমানে যে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে জল সরবরাহ করা হয়, সেই জল অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত প্রধান সহদেব দাস জানান, জল সরবরাহের ক্ষেত্রে দপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা মিলছে না। পুরো পঞ্চায়েত এলাকায় মাত্র দুটি গাড়ির মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা একেবারেই অপ্রতুল। তিনি নিজেও এই ব্যবস্থায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি গাড়ির ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি চান, যতদিন না ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্বাভাবিকভাবে চালু হচ্ছে, ততদিন বিকল্প ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হোক।

এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট জল দপ্তর এই সমস্যাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হোক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ