লংতরাইভ্যালী মহকুমায় হর ঘর জল প্রকল্পের প্রহসন পাঁচ বছরেও জল পেল না ৩০০ পরিবার, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী

লংতরাইভ্যালী মহকুমায় হর ঘর জল প্রকল্পের প্রহসন পাঁচ বছরেও জল পেল না ৩০০ পরিবার, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাস

লংতরাইভ্যালী থেকে রঞ্জিত মল্লিক 

লংতরাইভ্যালী:- কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প, উদ্বোধনের ঢাকঢোল, আর বুক ভরা প্রতিশ্রুতি  কিন্তু বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি একফোঁটাও জল। ধলাই জেলার লংতরাইভ্যালী মহকুমার ঘাগড়াছড়া এলাকায় এটাই আজ নির্মম বাস্তবতা। কেন্দ্রীয় সরকারের বহুল প্রচারিত হর ঘর  জল জীবন মিশন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাম্প, মেশিনঘর, পাইপলাইন, এলিভেটেড সার্ভিস রিজার্ভার সবকিছু নির্মাণ হয়েছে কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মনু ব্লকের গাইনমা ও পরেশ সরকার পাড়া-সহ ঘাগড়াছড়া এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবারের কলে আজও জল আসে না। এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নজির নয়  এ হলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম প্রতারণা।সরকারি সাইনবোর্ড দাঁড়িয়ে আছে, নলও বসানো হয়েছে প্রতিটি বাড়িতে। কিন্তু মেশিনঘর থেকে জল সরবরাহ শুরু হয়নি। কেন্দ্র থেকে ৯০ লক্ষ এবং রাজ্য থেকে ১০ লক্ষ টাকা মোট প্রায় ১ কোটি টাকার এই প্রকল্প আজ কার্যত মরচে ধরা কঙ্কাল হয়ে পড়ে আছে। পাইপলাইন পেতেছে মাটির নিচে, রিজার্ভার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আকাশের দিকে কিন্তু তৃষ্ণার্ত মানুষের ঘরে জল নেই। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এই কোটি টাকা কোথায় গেল? কার পকেট ভারী হলো?
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এই সমস্যার কথা বহুবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। DWS  দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছে। কিন্তু মনু ডিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত DWS দপ্তরের SDO মহাশয়ের টনক নড়েনি। প্রতিবার অভিযোগ গিয়ে ডুবেছে আমলাতান্ত্রিক অন্ধকূপে। এই উদাসীনতা কি নিছক অদক্ষতা, নাকি সুচিন্তিত নির্লিপ্ততা সেই প্রশ্নের জবাব এলাকাবাসী চাইছেন।
হর ঘর জল প্রতিটি বাড়িতে জল। কেন্দ্রীয় সরকার এই স্লোগানে দেশজুড়ে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছে, বুক ঠুকে দাবি করেছে সাফল্যের। কিন্তু এর ঘাগড়াছড়ার ৩০০ পরিবারের কাছে এই স্লোগান আজ রীতিমতো উপহাসে পরিণত হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে তারা জিজ্ঞেস করছেন  কোন ঘরে জল এলো? আমাদের ঘরে কখন আসবে? গ্রামবাসীদের ক্ষোভ কেবল প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়, সমান ক্ষোভ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতিও। ভোটের আগে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোট মিটলে প্রতিনিধিদের আর দেখা মেলে না। জলের দাবিতে দরজায় দরজায় ঘুরেও কোনো সাড়া পাননি এলাকার মানুষ। এই বারবার প্রতারিত হওয়ার অভিজ্ঞতাই আজ পরিণত হয়েছে গভীর অনাস্থায়।ঘাগড়াছড়ার ৩০০ পরিবার আর অপেক্ষা করতে রাজি নন। তাঁদের দাবি সরল ও স্পষ্ট  অবিলম্বে মেশিনঘর চালু করে পানীয় জল সরবরাহ শুরু করতে হবে। প্রকল্পের অর্থ কোথায় গেছে তার স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।পানীয় জল মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার থেকে পাঁচ বছর ধরে বঞ্চিত রাখা কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি নয়  এ হলো সংবিধান-স্বীকৃত অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। কর্তৃপক্ষ যদি এখনও নির্লিপ্ত থাকেন, তাহলে এই ক্ষোভ আরও বড় আন্দোলনের রূপ নেবে এমন সতর্কবার্তাই দিচ্ছেন ঘাগড়াছড়ার সাধারণ মানুষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ