গন্ডাছড়া মহকুমার সদর এলাকায় গত ১২ থেকে ১৩ দিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে

 গন্ডাছড়া মহকুমার সদর এলাকায় গত ১২ থেকে ১৩ দিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একদিকে তীব্র গরম  অন্যদিকে  জলের দেখা নেই।  এই দ্বিমুখী সংকটে নাকাল হয়ে পড়েছেন মহকুমার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। জল সম্পদ দপ্তরের অবহেলা ও উদাসীনতায় মহকুমাজুড়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে হরিপুর এলাকার প্রায় ষাট থেকে সত্তর পরিবার সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

দপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়  ওভারহেড ট্যাংকটি পূর্ণ করে জল সরবরাহ করতে মূলত চারটি মোটরের প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমানে মাত্র একটি মোটর সচল রয়েছে। সেই একটিমাত্র মোটর দিয়ে নদী থেকে জল ট্যাংকে তুলতে গিয়ে প্রতি দশ থেকে বারো দিনে একবার কোনোমতে জল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে পানীয় জলের জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে  এবং অনেক পরিবার বাজার থেকে জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিস্থিতি আরও গুরুতর করে তুলেছে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। জানা গেছে  প্রায় এক বছর আগে যখন ওভারহেড ট্যাংক পরিচালনার দায়িত্বে একটি বেসরকারি সংস্থা ছিল  সেই সময়কালে অফিস থেকে দুটি মোটর রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। সূত্রের দাবি  দপ্তরের এসডিও মগ সাহেব এই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন । তবুও এ নিয়ে কোনো তদন্ত হয়নি কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি সঠিক তদন্ত হলে এই অন্তর্ধানের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।আর কত সহ্য করব?  টেপে  জল নেই। বাচ্চাদের জন্য দূর থেকে জল বহন করে আনতে হচ্ছে। দপ্তর কোনো কথাই শুনছে না। এভাবে চললে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। হরিপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান। দপ্তরের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ কেবল মোটর সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়। একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হওয়া এবং অফিসে তালাবন্দি আন্দোলন হওয়ার পরেও দপ্তরের মন্ত্রী বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংজ্ঞানে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ জল সম্পদ দপ্তরের এসডিওর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে অফিসটি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।এলাকাবাসীর তরফ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট দাবি উঠে এসেছে। হরিপুর ৩৩ কেভি এলাকায় অবস্থিত মিনি ডিপটিউবওয়েল থেকে হরিপুরের ষাটটি পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।মহকুমার সচেতন নাগরিক মহল মনে করেন  এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য দপ্তরের মন্ত্রী বা জেলা শাসককে স্বয়ং এলাকায় এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে। শুধু দপ্তরের অফিসে বসে প্রতিশ্রুতি নয়  চাই কার্যকর পদক্ষেপ।সামগ্রিকভাবে গন্ডাছড়া মহকুমায় জল সংকট এখন কেবল অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয় এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন যদি এখনই সচেষ্ট না হয়  তাহলে এই ক্ষোভ বৃহত্তর গণআন্দোলনের আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।সবচাইতে লক্ষনীয় বিষয় হলো ওভারহেড ট্যাংকের  জল বন্ধ হলেও। দপ্তর গাড়ির মাধ্যমে  জল সরবরাহ করার প্রয়োজন বোধ করেনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ