৪৪ রাইমা ভ্যালী মণ্ডলে সাংগঠনিক ভারসাম্যের দাবি, বাঙালি নেতৃত্বকে মণ্ডল সভাপতি করার আবেদন
গণ্ডাছড়া: ৪৪ রাইমা ভ্যালী মণ্ডলে সাংগঠনিক ভারসাম্য ও সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ ও জেলা নেতৃত্বের কাছে একটি আবেদনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজের একজন যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও অভিজ্ঞ দলীয় কর্মীকে মণ্ডল সভাপতি হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, গণ্ডাছড়া এলাকায় ২০১৬–১৭ সাল থেকে বাঙালি ও চাকমা সমাজের বহু মানুষ বিজেপির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙালি ভোটার থাকলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বিধায়ক, এমডিসি কিংবা ব্লক চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সবসময় সবার জন্য সমানভাবে আসে না। তাই সাংগঠনিক স্তরে একজন যোগ্য বাঙালি নেতৃত্বকে মণ্ডল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য ও আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মণ্ডল সভাপতি পদের জন্য তিনজনের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—৪৪ রাইমা ভ্যালী মণ্ডলের প্রাক্তন সম্পাদক সমীর দাস, ৪৪ রাইমা ভ্যালী যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি সজল মল্লিক এবং ৪৪ রাইমা ভ্যালী মণ্ডল SC মোর্চার বর্তমান সভাপতি অতিশ দাস। আবেদনে তাঁদের দীর্ঘদিনের দলীয় সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামোতেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে মণ্ডল সভাপতি হিসেবে বাঙালি সমাজের নেতৃত্বের পাশাপাশি সহ-সভাপতি পদে মদন বিকাশ চাকমা ও গোপাল সরকার, সাধারণ সম্পাদক পদে দরবাচা চাকমা ও খজেন্দ্র রিয়াং এবং সম্পাদক পদে বাঙালি, ত্রিপুরা, চাকমা, দেববর্মা ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি, এই প্রস্তাব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। বরং দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মীদের অবদানকে মূল্যায়ন, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংগঠনিক আস্থা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রদেশ ও জেলা নেতৃত্বের কাছে আবেদনকারীদের অনুরোধ, ৪৪ রাইমা ভ্যালী মণ্ডলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি, কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, জনসংযোগ এবং সকল সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে চলার সক্ষমতা বিবেচনা করে মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
আবেদনের শেষে বলা হয়েছে—“ব্যক্তি নয়, সংগঠনই সর্বাগ্রে। সকল সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে শক্তিশালী ৪৪ রাইমা ভ্যালী মণ্ডল গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

0 মন্তব্যসমূহ