রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছৈলেংটায় যুবক গ্রেপ্তার, পরিবারের চার সদস্য পলাতক

রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছৈলেংটায় যুবক গ্রেপ্তার, পরিবারের চার সদস্য পলাতক

লংথরাইভ্যালি প্রতিনিধি: রেলওয়ে বিভাগে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাপ্পি সরকার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ছৈলেংটা থানার পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও অভিযোগকারীদের সূত্রে জানা যায়, আগরতলার আমতলী ও গোলাঘাটি এলাকার তিন বাসিন্দা রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত ২৪ জুলাই ২০২৬ ছৈলেংটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ছৈলেংটা থানায় কেস নম্বর ০৯/২০২৬, তারিখ ২৪ জুলাই ২০২৬-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাপ্পি সরকার তাঁদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেন। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও চাকরির ব্যবস্থা না হওয়ায় তাঁরা অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সে সময় বাপ্পি সরকার বারবার চাকরি হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পরবর্তী সময়ে চাকরি ও টাকা ফেরতের বিষয়ে কথা বলতে তাঁরা আগরতলা থেকে বাপ্পি সরকারের বাড়িতে গেলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁদের মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই বাপ্পি সরকারের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে ছৈলেংটা থানার পুলিশ। প্রথমদিকে তাঁর কোনো সন্ধান না মিললেও পরে গোপন সূত্রে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই মামলায় বাপ্পি সরকার ছাড়াও তাঁর বাবা প্রদীপ সরকার, মা মায়া রানী সরকার, ছোট ভাই অসীম সরকার এবং স্ত্রী মামুন সরকারের নামেও অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই চারজন বর্তমানে পলাতক। তাঁদের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ছৈলেংটা থানার এসডিপিও সোনাচরণ জমাতিয়া জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় বাপ্পি সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, বাপ্পি সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যক্তি। তবে ওই অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

প্রদত্ত তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাপ্পি সরকারের বাবা প্রদীপ সরকার বর্তমানে ওবিসি মোর্চার মণ্ডল সভাপতি এবং ময়নামা বুথ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এই তথ্যটি প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও পুলিশের কাছ থেকে আলাদাভাবে যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ