রইস্যাবাড়ি সীমান্তে ফের কোটি টাকার কাপড় পাচার-চক্রের হদিশ থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পুলিশ প্রশাসন
বিশেষ সংবাদদাতা, গন্ডাছড়া :রইস্যাবাড়ি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সিকান্দার বিওপি সংলগ্ন এলাকা থেকে সোমবার গভীর রাত আনুমানিক দুইটা নাগাদ ১৫৪ নম্বর বাহিনীর জওয়ানরা বিপুল পরিমাণ পাচারকৃত কাপড় আটক করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দশ লক্ষ টাকা। কিন্তু এই ঘটনার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে এমন কিছু প্রশ্ন, যার জবাব খুঁজছে গোটা এলাকার সাধারণ মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে রইস্যাবাড়ি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু, কাপড়, নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ নানা সামগ্রীর পাচার-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অথচ এই বেআইনি কারবার রুখতে রইস্যাবাড়ি থানা বারংবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। থানার এই নিষ্ক্রিয়তা কি নিছক দুর্বলতা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো হিসেব-নিকেশ এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। স্থানীয় জনগণের সরাসরি অভিযোগ, নগদ নারায়ণে পুলিশ ম্যানেজ হয়ে যায়, ফলে পাচারকারীরা থাকে বহাল তবিয়তে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকাও একইভাবে সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয় বলে মত এলাকাবাসীর।
কিছুদিন আগে এই পাচার-বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয় জনগণের প্রবল অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে সীমান্ত এলাকায় একটি অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযানে প্রশাসন কার্যত কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। এরপর মহকুমা প্রশাসনের ক্রমাগত চাপে পড়েই বিএসএফ অবশেষে এই কাপড় আটক করে বলে অভিযোগ, যাকে স্থানীয়রা আখ্যা দিচ্ছেন নিছক "লোক দেখানো" পদক্ষেপ হিসেবে। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক চাপ না পড়লে কি এই আটক প্রক্রিয়াও ঘটত না? সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শুধু কাপড় বা গরু পাচারই নয় এই সীমান্ত পথ দিয়ে অবাধে চলে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধও, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। তা সত্ত্বেও পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী কেন বারবার এই চোরাচালান রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে, তার সদুত্তর নেই কারও কাছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে এই স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় এত ঢিলেঢালা নজরদারি কার স্বার্থে এই প্রশ্নই এখন তুলছে সাধারণ মানুষ।যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে রইস্যাবাড়ি থানার ভূমিকা নিয়ে উচ্চস্তরীয় তদন্ত হোক এবং সীমান্ত পাচার-চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রশাসন যদি এখনও নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে, তবে আগামী দিনে এই ইস্যুতে বৃহত্তর জনরোষের মুখে পড়তে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্যসমূহ