গণ্ডাছড়ায় পানীয় জল সংকট প্রশাসনের উদাসীনতায় দুর্ভোগে জনগণ ফুঁসছে জনরোষ

গণ্ডাছড়ায় পানীয় জল সংকট প্রশাসনের উদাসীনতায় দুর্ভোগে জনগণ ফুঁসছে জনরোষ

গণ্ডাছড়া, ২৭ আগস্ট : গণ্ডাছড়া সদর এলাকায় টানা চারদিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত। শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, অথচ প্রশাসনের টনক নড়ছে না। এলাকার একমাত্র ওভারহেড ট্যাংকের মোটর বিকল হওয়ায় জল সরবরাহ স্তব্ধ হয়ে থাকলেও দফতরের আধিকারিকরা কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের এই দায়সারা মনোভাব আর কতদিন সহ্য করবে জনগণ? এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ, এই সংকট নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে হরিপুর সহ গণ্ডাছড়া সদরের অধিকাংশ পরিবার এই দুর্দশার শিকার। কখনো শর্ট সার্কিট, কখনো মোটর বিকল, আবার কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অজুহাত দেখিয়ে দফতর দায় এড়িয়ে যায়। জল সংকট নিরসনের দাবিতে জনগণ বারবার সড়ক অবরোধ করেছেন, দফতরে তালা ঝুলিয়েছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিন্তু দফতরের কর্তাব্যক্তিদের কোনো হেলদোল লক্ষ্য করা যায়নি। প্রশ্ন উঠছে, জনগণের এই বারংবার প্রতিবাদও কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙাতে ব্যর্থ? আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠে এসেছে জলের গুণমান নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী নদীর জল পরিশোধন করে ওভারহেড ট্যাংকে তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে বহু সময় অপরিশোধিত জল সরাসরি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। জল সরবরাহও অনিয়মিত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশো পরিবার জল সংকটে ধুঁকছে, আর শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ জলবাহিত রোগের কবলে পড়ছেন। জনস্বাস্থ্যের এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দায় কার এই প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, এই সমস্যা সম্পর্কে গণ্ডাছড়া মহকুমাশাসক, স্থানীয় বিধায়িকা এবং এমডিসি সকলেই সম্পূর্ণ অবগত থাকলেও স্থায়ী সমাধানে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। জনপ্রতিনিধিদের এই নীরবতা জনমনে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানা গেছে, অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বাস্তবে তার সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে তাহলে এই বিপুল অর্থ যাচ্ছে কোথায়? গণ্ডাছড়া সদর ও হরিপুরের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রতিদিন বাড়ছে, আর তারা অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ