গন্ডাছড়া মহকুমার প্রত্যন্ত এলাকার তৈচাকমা এডিসি ভেলিজের সেনপাড়ায় ভাঙা কুঁড়ে ঘরে মানবেতর অবস্থায়
বসবাস করা ৮০ বছরের বৃদ্ধা সুজি মুখী চাকমা—এই একটি নাম আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন প্রতিচ্ছবি। স্বাধীন ভারতের নাগরিক হয়েও তিনি বছরের পর বছর কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি, পাননি ন্যূনতম বৃদ্ধ ভাতা, পাননি সামাজিক সুরক্ষার কোনও ছায়া। প্রশ্ন উঠছেই—তাহলে এতদিন প্রশাসন কোথায় ছিল?আমাদের সংবাদমাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আজ গন্ডাছড়ার সিডিপিও-কে সঙ্গে নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছান স্বশাসিত জেলা পরিষদের ইএম রাজেশ ত্রিপুরা। বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভাব ও বসবাসের অমানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। দ্রুত সরকারি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কম্বল, চাল ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে বৃদ্ধা ভাতা ও একটি নতুন ঘর নির্মাণে ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও এসেছে। নিঃসন্দেহে এগুলো মানবিক উদ্যোগ—কিন্তু প্রশ্ন একটাই:
সংবাদ প্রকাশ না হলে কি এই বৃদ্ধার দিকে কারও নজর পড়ত?
একজন ৮০ বছরের বৃদ্ধা কীভাবে বছরের পর বছর প্রশাসনের চোখের আড়ালে থেকে গেলেন?
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো কি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ?
এটা কোনও একক ঘটনা নয়—এটা গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এখনও অসংখ্য সুজি মুখী চাকমা আছেন, যাঁরা নিঃশব্দে কষ্ট সহ্য করছেন, সাহায্যের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
আজকের এই তৎপরতা আশার আলো দেখালেও, এটা যদি শুধুই “সংবাদ-পরবর্তী মানবিকতা” হয়, তাহলে আগামীকাল আবার কেউ না কেউ সুজি মুখী চাকমা হয়ে উঠবেন।
প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাই—প্রতিশ্রুতি নয়, চাই স্থায়ী ব্যবস্থা। মানবিকতা নয়, চাই ন্যায়বিচার।
কারণ মানবিকতা কোনও অনুগ্রহ নয়—এটা নাগরিকের অধিকার।
0 মন্তব্যসমূহ