জীবন মিশন প্রকল্প যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে পশ্চিম কাঞ্চনমালা এলাকায়।
কাঞ্চনমালা প্রতিনিধি
দেশ ও রাজ্যের প্রতিটি পরিবার যেন জলের জন্য হাহাকার না করতে হয় তার জন্য সরকার জল জীবন মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পের আওতায় শহর কিংবা গ্রামে প্রচুর পাম্প মেশিন বসানো হয়েছে, আর সেই মেশিনের জল পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে। জল জীবন মিশন এর সেই পানীয় জল যদি মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে সাধারণ মানুষ কোথা থেকে পাবে জল! ডুকলী আর ডি ব্লকের অন্তর্গত কাঞ্চনমালা এসবি স্কুল সংলগ্ন সরকারি কোষাগরের বহু টাকা ব্যয় করে মানুষের কাছে জল পৌঁছানোর জন্য একটি পাম্প মেশিন বসানো হয়। এই পাম্প মেশিন থেকে পশ্চিম কাঞ্চনমালা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জল সরবরাহের জন্য পাইপ লাইন বসানো হয়। এই পাম্প মেশিনটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপারেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই এলাকারই শিশু রঞ্জন রায়ের ছেলে দীপক রায়কে। জলের পাম্প মেশিন থাকা সত্ত্বেও এলাকার মানুষ এখন অভিযুক্ত হচ্ছে পাম্প অপারেটর দীপক রায়ের বিরুদ্ধে। এলাকার মানুষের অভিযোগ পাম্প অপারেটর দীপক রায় তার নিজের মর্জি মাফিক পাম্প মেশিন চালাচ্ছে। দীপক রায় পাম্প মেশিন চালু করে এক ঘন্টা থেকেও কম সময়ের মধ্যে আবার মেশিন বন্ধ করে দেয়। এই সামান্য কিছু সময়ের মধ্যে মানুষ তাদের প্রয়োজনে জল সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে পারছে না। এরই মধ্যে গত ৮-১০ দিন ধরে পশ্চিম কাঞ্চনমালা এলাকার মানুষ জল পাচ্ছে না অর্থাৎ মেশিন বন্ধ রয়েছে, তার কারণ পাম্প মেশিনে নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। পাম্প মেশিন খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট ডি ডব্লিউ এস দপ্তরের তরফ থেকে তা অতি দ্রুত সারাই করার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন ছিল কিন্তু আজ আর দশ দিন হয়ে গেলেও পাম্প মেশিন বন্ধ রয়েছে যার ফলে এলাকার মানুষ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষের আরো অভিযোগ পাম্প মেশিনটি যদি অন্তত দুই ঘণ্টা করে প্রতিদিন জল দিত তাহলে নিত্যদিনের মানুষের এই জলের সমস্যা দূর হতো। দীপক রায় নাকি নিজের ইচ্ছাকৃতভাবেই কম সময় পর্যন্ত মেশিন চালিয়ে আবার বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই নাকি এই সমস্যায় ভুগছে ভুক্তভোগীরা, সাধারণ মানুষ একাধিকবার পাম্প অপারেটর দীপক রায়কে তাদের এই বিষয়টি জানিয়েছিল কিন্তু দীপক রায় মানুষের এই সমস্যার কথা কর্ণপাত করেনি। জলের এই সমস্যার জন্য এলাকার মানুষ পাম্প অপারেটর দীপক রায়কেই দায়ী করছে। স্থানীয় এলাকাবাসীরা রাজ্য সরকার এবং ডি ডব্লিউ এস দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি জানিয়েছে পাম্প মেশিনের যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে খুব দ্রুত যেন সেটি সারাই করার ব্যবস্থা করে এবং পাম্প অপারেটর দীপক রায়কে যেন এমন নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে মানুষ অন্তত ২ ঘন্টা করে প্রতিদিন জল পেতে পারে। এখন দেখার বিষয় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর কি ভূমিকা গ্রহণ করে।

0 মন্তব্যসমূহ