ছৈলেংটায় অশান্তির আগুন: তিপ্রা মথার পতাকা ঘিরে BMS অফিসে তীব্র সংঘর্ষ, জাতীয় সড়ক অবরোধ

ছৈলেংটায় অশান্তির আগুন: তিপ্রা মথার পতাকা ঘিরে BMS অফিসে তীব্র সংঘর্ষ, জাতীয় সড়ক অবরোধ

গতকাল তিপ্রা মথা-র জনসভায় টিপ দিতে যাওয়া একাধিক গাড়িতে লাগানো ছিল তিপ্রা মথার দলীয় পতাকা। আজ সকালে সেই পতাকাগুলি কিছু সংখ্যক ড্রাইভার ছৈলেংটা BMS অফিসে এনে রেখে দিলে শুরু হয় চরম উত্তেজনা। বিষয়টি ঘিরে BMS-এর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, দেওয়া হয় অফিসে তালা।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্ষুব্ধ চালকদের একাংশ জাতীয় সড়ক অবরোধে বসে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। একই সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে ছুটে আসেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিপ্লব চাকমা। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তাঁর দিকেও কিছু সংখ্যক চালক তেড়ে যায়।

এরপর BMS-এর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় তীব্র দ্বন্দ্ব—পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক, অশান্তি আর বিশৃঙ্খলার ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অবশেষে দুপুর নাগাদ পুলিশের কড়া হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জাতীয় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে, একাংশ চালকের অভিযোগ, তিপ্রা মথার জনসভায় টিপ দেওয়ার কারণেই তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছে, তাঁদের ওপর চাপ, হুমকি ও অপমানের ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

প্রশ্ন থেকেই যায়—

কে বা কারা এই উত্তেজনা ছড়াল?

কার স্বার্থে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ?

রাজনৈতিক প্রতীককে ব্যবহার করে অরাজকতা সৃষ্টি করার এই প্রবণতা কি আর সহ্য করা হবে?

প্রশাসনের কাছে দাবি—দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও রাজনৈতিক উসকানি সাধারণ মানুষের জীবনকে জিম্মি করতে না পারে।

ছৈলেংটার এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল, রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব আর সংগঠনের অন্তর্দ্বন্দ্ব মিলেই সমাজে অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী চালকরাই বারবার তার বলি হচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই অরাজকতার দায় নেবে কে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ