বিপর্যয় মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল তেলিয়ামুড়া মহকুমায়। উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ার ঘটনাকে ঘিরে অতীতের এক মর্মান্তিক স্মৃতিও নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
বিগত দিনে তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট মহকুমা শাসক কার্যালয় সংলগ্ন জাতীয় সড়কে এক দুর্ঘটনায় গাড়িচাপায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন গাড়িচালক মিহির দেবনাথ। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা হলেও বিপর্যয় মোকাবেলার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ায় তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ওই ঘটনার জেরে তৎকালীন মহকুমা শাসক পরিমল মজুমদারকে বরখাস্তও করা হয়েছিল।সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও সামনে এল একই ধরনের অব্যবস্থার ছবি। সম্প্রতি তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে চাকমাঘাট নৌকাঘাট এলাকায় যুবক-যুবতীদের নিয়ে বিপর্যয় মোকাবেলা সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে উদ্ধারকাজ চালাতে হবে, কীভাবে নৌকা পরিচালনা করতে হবে—এসব বিষয়ে প্রথমে মৌখিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল পর্বে গিয়েই দেখা যায় বিপত্তি। প্রশিক্ষণের জন্য আনা বোটটি চালু করতেই সমস্যা দেখা দেয়। সুইচ দেওয়ার পরেও বোটের যন্ত্র কাজ করেনি। ফলে উপস্থিত যুবক-যুবতীদের সামনে প্রশিক্ষণ কার্যত থমকে যায়।এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সুর শোনা যায়। তাঁদের বক্তব্য, বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য প্রশাসনের বিশেষ দল থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় প্রয়োজনের সময় যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ছে। অতীতে এই ধরনের অব্যবস্থার জেরে এক যুবকের প্রাণহানিও ঘটেছে।স্থানীয়দের একাংশের মতে, বিপর্যয়ের সময় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যন্ত্রপাতি সচল থাকা অত্যন্ত জরুরি। অথচ প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতেই যদি বোটের যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে, তা হলে প্রকৃত বিপদের সময় পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তেলিয়ামুড়া মহকুমায়।

0 মন্তব্যসমূহ