ধুমাছড়ায় বিজেপির জনসভা ও যোগদান কর্মসূচি: মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার হাত ধরে ৫৮৭ ভোটারের যোগদান
আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার ধলাই জেলার করমছড়া বিধানসভার অন্তর্গত ধুমাছড়া করমছড়া বিজেপি মন্ডলের উদ্যোগে এক জনসভা ও যোগদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন ধরে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার হাত ধরে মোট ৫৮৭ জন ভোটার বিজেপি দলে যোগদান করেন।
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন করমছড়া বিজেপি মন্ডলের সভাপতি সঞ্জীত দেববর্মা, ধলাই জেলা বিজেপির জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা, এমডিসি সঞ্জয় দাসসহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, বিজেপি জোটসঙ্গীদের অস্বীকার করে না, তবে আগামী এডিসি নির্বাচনে দলের লক্ষ্য ২৮টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। তিনি বলেন, “কেউ আমাদের উপর এসে দাদাগিরি করবে—এই সুযোগ আমরা দেবো না। আমরা কাউকে ছাড়তে চাই না, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে আমাদের।তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গেলে মানুষ তাকে বলেন যে ত্রিপুরা এখন ভালোভাবে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটি একার কৃতিত্ব নয়, বরং রাজ্যের মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও একসাথে কাজ করার ফলেই সম্ভব হয়েছে।নাম না করে তিপ্রা মথার উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার শান্তি ও উন্নয়ন দেখে কিছু শক্তি অস্থির হয়ে উঠেছে। তাই তারা উলটপালট করা, প্ররোচনা দেওয়া, সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানো এবং ত্রিপুরার বাইরে ‘গ্রেটার তিপরাল্যান্ড’-এর মতো দাবি তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ত্রিপুরাতে থাকতে রাজি না—গ্রেটার তিপরাল্যান্ডে চলে যাবেন—এটা কি কোনোদিন সম্ভব? হবে না কোনোদিন।”
তিনি আরও বলেন, “একেক সময় একেক কথা বলা হচ্ছে—কখনো গ্রেটার তিপরাল্যান্ড, আবার কখনো ‘ওয়ান নর্থইস্ট’। এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।বিজেপির পতাকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকার মাঝখানে থাকে পদ্মফুল, আর মানুষ সেই পদ্ম চিহ্নেই ভোট দেন। কিন্তু কিছু দলে দেখা যায়, দলের প্রতীক নয়—বরং ব্যক্তির ছবি পতাকায় বসানো হয়। অদ্ভুত! একটা পার্টি—এটা তো ব্যক্তিগত পার্টি হতে পারে না কোনোদিন। আমার খুব ভালো লাগল বড় ভাইদের কথা যে শুনেছে। দেখলাম যে এটা মুছে এখন আনারস ঢুকে গেছে সেখানে। জনজাতি রাজনীতি নিয়েও তিনি সমালোচনা করে বলেন, “শুধুমাত্র ‘জনজাতি’ বলে আমাদের রামপদ বাবুকে অধ্যক্ষ পদে সমর্থন জানাবেন, আবার নিজেদের দলের একজন জনজাতি নেতাকে ‘গদ্দার’ বলবেন—এটা কেমন দ্বিচারিতা? আবার আপনাদের চেলা-চামুণ্ডাদের দিয়ে বিজেপির জনজাতি সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে।”মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রীসভায় ৫ জন জনজাতি মন্ত্রী রয়েছেন এবং সম্প্রতি সরকার একজন বরিষ্ঠ জনজাতি বিধায়ককে অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করেছে। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ