অবশেষে সমস্ত জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে আদালতের নির্দেশে আদালতের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত প্রধানের হাত থেকে দখলমুক্ত করল টিলা ভূমির একটি রাবার বাগান।
পঞ্চায়েত প্রধান বলে কথা, প্রশাসনিক ক্ষমতাকে বাহুবলি ক্ষমতার রূপ দিয়ে গরিব মানুষের জায়গা দখল করা যায় তা আবারো প্রমাণ করে দিল সূর্যমনিনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায় সহ তার দুই ভাই। সেটাও প্রমাণ করলো অবৈধ কাজের জন্য বাহুবলী ক্ষমতা প্রয়োগ করলেও আইন চলবে আইনের গতিতেই। অভিযোগ সূর্যমনিনগর বিধানসভার অন্তর্গত চৌমুহনী বাজার রেল ব্রিজ সংলগ্ন ভুলু সূত্রধরের বাবা স্বর্গীয় সুরেন্দ্র সূত্রধরের একটি টিলাভূমি রয়েছে, যেখানে উনার ছেলে ভুলু সূত্রধর রাবার বাগান চাষ করেছিলেন। এদিকে ভুলু সূত্রধরের রাবার বাগানে কুনজর পড়ে সূর্যমনিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান উত্তম রায়ের। নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং বাহুবলি ক্ষমতার জোরে ভুলু সূত্রধরের বাবার নামে রেজিস্টারকৃত এই টিলাভূমির রাবার বাগানটি দখল করে নেয় পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায়। বিষয়টি স্বর্গীয় সুরেন্দ্র সূত্রধরের ছেলে ভুলু সূত্রধর তক্ষণাৎ আইনের দ্বারস্থ হয়ে এবং আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘদিন আদালতে মামলাটি চলার পর সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণাদির মূলে বিচারক রায় দেন এই জায়গার প্রকৃত মালিক স্বর্গীয় সুরেন্দ্র সূত্রধর। তাই দখলকৃত এই জায়গাটি সূর্যমনিনগরের পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায় দখল ছেড়ে দিয়ে স্বর্গীয় সুরেন্দ্র সূত্রধরের ছেলে ভুলু সূত্রধরের হাতে হস্তান্তর করার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই নির্দেশ মূলে গত দুই মাস আগে আদালতের আধিকারিকরা জায়গাটি দখলমুক্ত করে ভুলু সূত্রধরের কাছে বুঝিয়ে দিতে সেই জায়গায় উপস্থিত হয়েছিলেন কিন্তু আদালতের আধিকারিকদের সামনেও প্রধান উত্তম রায় সহ তার ভাই এবং কিছু সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে আদালতের আধিকারিকদের কাজে বাধা দেয়, যার ফলে আদালতের আধিকারিকরা নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। অবশেষে এই বিষয়টি আবার আদালতে জানানো হয় পরে আদালতের তরফ থেকে একটি কঠুর নির্দেশ জারি করা হয়, যে নির্দেশ অনুসারে সোমবার দুপুরে আদালতের আধিকারিকরা এবং আমতলী থানার পুলিশের সহযোগিতায় সেই জায়গায় গিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায়ের কাছ থেকে দখলমুক্ত করে মোট ৬৪ শতক জায়গা আদালতের নির্দেশ নামা সহ লাল পতাকা উঠিয়ে এবং দোল পিটিয়ে ভুলু সূত্রধর কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে এদিন দূর থেকে পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায় পুলিশ দেখতে পেয়ে বাহুবলী ক্ষমতা দেখাতে সামনে আসেনি। অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম রায় নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং বাহুবলি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এমন আরো বহু মানুষের জায়গা জমি জোর করে দখল করে রেখেছে। ইতিমধ্যে এইসব জায়গাগুলি দখলমুক্ত করতে আদালতে মামলাও চলছে। এলাকার সাধারণ মানুষ একজন পঞ্চায়েত প্রধান তথা জনপ্রতিনিধির এই ধরনের কর্মকাণ্ডে উত্তম রায়ের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে গিয়ে বলতে শোনা গেছে বর্তমান শাসকদল এ কেমন ধরনের ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি তথা পঞ্চায়েত প্রদানের চেয়ারে বসিয়েছেন যে প্রধান এলাকার মানুষকে ন্যায় পাইয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নিজেই ভূমি মাফিয়ার খাতায় নাম লিখিয়ে কিভাবে গরিব মানুষের জায়গা একের পর এক দখল করে চলছে। মানুষ এখন দাবি তুলছে সরকার এবং শাসক দল যেন খুব শীঘ্রই এই ধরনের জনপ্রতিনিতিদের যেন খুব দ্রুত গুড়া থেকে উপড়ে ফেলে না হলে অবশ্যই এই ধরনের যৌন প্রতিনিধিদের জন্য একদিন সরকার এবং দলকে বেকায়দায় পড়তে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ