ত্রিপুরায় রেশন ডিলারদের তিন মাস ধরে কমিশন বন্ধ চরম আর্থিক সংকটে জনবিতরণ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড

ত্রিপুরায় রেশন ডিলারদের তিন মাস ধরে কমিশন বন্ধ চরম আর্থিক সংকটে জনবিতরণ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড

রাজ্য সরকারের খাদ্য দপ্তরের অবহেলা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার শিকার হয়েছেন ত্রিপুরার সরকারি ন্যায্য মূল্যের দোকানের (Fair Price Shop) ডিলাররা। গত তিন মাস ধরে রাজ্যের রেশন ডিলাররা তাঁদের মাসিক কমিশন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন  যা তাঁদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রেশন ডিলাররা প্রতি মাসে এই কমিশনের উপর নির্ভর করে তাঁদের সংসার পরিচালনা করেন। কিন্তু টানা তিন মাস কমিশন না পেয়ে তাঁরা এখন চরম আর্থিক বিপাকে পড়েছেন। পরিবারের ভরণপোষণ থেকে শুরু করে দোকানের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন।এ প্রসঙ্গে একাধিক ডিলার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারের হয়ে গরিব মানুষের দোরগোড়ায় রেশন পৌঁছে দিই। অথচ আমাদেরই না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।" তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা প্রতি মাসে নিয়মিত ও সময়মতো বেতন পেলেও রেশন ডিলারদের ন্যায্য কমিশন মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক ও অমানবিক।উল্লেখ্য, সরকারি ন্যায্য মূল্যের দোকানদাররা রাজ্যের জনবিতরণ ব্যবস্থার  অপরিহার্য অংশ। দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি রেশন  চাল, গম, কেরোসিন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এই ডিলারদের উপরেই ন্যস্ত। অথচ সেই দায়িত্বশীল মানুষগুলো আজ নিজেরাই অসহায়।প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এই বকেয়া কমিশন পরিশোধে এতটা উদাসীন? সরকারি কর্মচারীদের বেতন ছাড় করতে কোনো দেরি নেই, কিন্তু রেশন ডিলারদের ন্যায্য প্রাপ্য মেটাতে কেন তিন তিনটি মাস পেরিয়ে যায়?

ক্ষুব্ধ ডিলাররা জানিয়েছেন, অবিলম্বে বকেয়া কমিশন পরিশোধ না হলে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত কমিশন প্রদান নিশ্চিত না করলে তাঁরা বাধ্য হবেন আন্দোলনের পথে নামতে। রেশন বিতরণ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অনেকে।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ডিলারদের দাবি  অবিলম্বে তিন মাসের বকেয়া কমিশন একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশন প্রদানের ব্যবস্থা আইনত নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যবস্থার সেবক হয়েও যদি ডিলারদের এভাবে অনাহারে দিন কাটাতে হয়, তাহলে এই ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ