ছাওমনু সোশ্যাল মিডিয়ায় পাম্প অপারেটরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার প্রতিবাদে সরব গ্রামবাসী ও প্রমিলা বাহিনী
সত্যতা যাচাই না করে একজন নিষ্ঠাবান সরকারি পাম্প অপারেটরের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে কলঙ্কজনক অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এলাকাজুড়ে। ধলাই জেলার ছাওমনু বাবনা মন্দির পাড়ার সরকারি জল সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্বরত পাম্প অপারেটর দুলাল চাকমার বিরুদ্ধে জল সরবরাহের নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের যে অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভুক্তভোগী পাম্প অপারেটর স্বয়ং এবং এলাকার সাধারণ মানুষ।
ক্ষোভে ফেটে পড়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দুলাল চাকমা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বিগত ৬-৭ বছর ধরে অত্যন্ত সততার সাথে এই দায়িত্ব পালন করে আসছি। আজ পর্যন্ত একটিও অভিযোগ কেউ করেননি। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী, হিংসাপরায়ণ মানুষ আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাম্প হাউজের ছবি ও ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে।" তিনি আরও জানান, বিকেল ৫টায় ডিউটি শেষ হওয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন ঠিক সেই ফাঁকেই সুপরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত ঘটানো হয়েছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য তাঁর সামাজিক সম্মান ধ্বংস করা।দুলাল চাকমা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার এক টুকরো প্রমাণও কেউ দেখাতে সক্ষম হবেন না। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবারকে তিনি নিয়মিত জল সরবরাহ করেন এবং শ্রাদ্ধ বা সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজের উদ্যোগে অতিরিক্ত জল দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান এখন তিনি এই মিথ্যা সংবাদ এর বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হতে চলেছেন।এই মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নীরব থাকেননি এলাকার মানুষ। ক্ষুব্ধ প্রমিলা বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে দৃঢ়কণ্ঠে জানান, "দুলাল ভাই কোনোদিন জলের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে একটি পয়সাও নেননি। এটা আমরা দেখেছি, জানি। তাঁর নামে যা রটানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও চক্রান্তমূলক।গ্রামবাসীরা আরও জানান, এলাকায় জলের কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংকট নেই। কখনো কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এটি স্বাভাবিক ঘটনা এবং এর দায় একজন পাম্প অপারেটরের উপর চাপানো অযৌক্তিক ও অন্যায়। দুলাল চাকমা এবং তাঁর পরিবার দিনরাত পরিশ্রম করে এলাকায় জল সরবরাহ সচল রাখছেন এই সত্য এলাকার প্রতিটি মানুষ জানেন।বাবনা মন্দির পাড়া এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই ঘটনায় একটি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন কোনোরকম সত্যতা যাচাই না করে, অভিযুক্তের বক্তব্য না নিয়ে শুধুমাত্র একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে একজন মানুষকে সামাজিকভাবে কলঙ্কিত করার এই প্রবণতা কতটা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচায়ক? এলাকাবাসী এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

0 মন্তব্যসমূহ