গন্ডাছড়ার কান্না কি বিধানসভায় পৌঁছাবে না? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ নাগরিকরা
নন্দননগরের সাধারণ সবজি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ নিয়ে যখন রাজ্যের বিধানসভায় সরগরম আলোচনা চলে, তখন গন্ডাছড়ার মানুষ প্রশ্ন তুলছেন তাদের যন্ত্রণা কি বিধানসভায় আলোচনার যোগ্যতা রাখে না?
গত ১২ জুলাই গন্ডাছড়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের মাথার উপর ছাদ ছিল, যাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ছিল একচিলতে ভিটেতে জমানো স্বপ্ন একদিনের মধ্যে তারা সব হারিয়েছেন। আজও অনেকের বুকের ভেতর সেই আতঙ্কের ক্ষত দগদগে। অনেক পরিবার এখনও ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, অনেক ব্যবসায়ী হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তুলছেন প্রতিনিয়ত। তবুও রাজ্যের সর্বোচ্চ আইনসভায় তাদের কথা কেন জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে নাএই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
নন্দননগরের সবজি বিক্রেতার কষ্ট যেমন এই রাজ্যের কষ্ট, গন্ডাছড়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর কান্নাও ঠিক একই বেদনার অংশ। মানুষের চোখের জলের কোনো পরিচয় হয় না, কোনো ভূগোল হয় না তাকে ভাগ করে দেখা উচিত নয়। অথচ বাস্তবতা বলছে, একই রাজ্যে দুই ধরনের সংকটের প্রতি দুই রকম মনোযোগ।
বিধানসভা যদি প্রকৃত অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকে, তাহলে গন্ডাছড়ার অসহায় মানুষগুলোর আর্তনাদও সেই কক্ষে প্রতিধ্বনিত হওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা ও প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে জনপ্রতিনিধিদের নীরবতা এখন জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।রাজনীতি নয়, ন্যায় চাই। বিভাজন নয়, নিরাপত্তা চাই। আর সবচেয়ে জরুরি প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান বিচার চাই, তার পরিচয় যাই হোক না কেন। গন্ডাছড়ার মানুষ আজও অপেক্ষায় তাদের যন্ত্রণার কথা কবে বিধানসভার আলোচনার টেবিলে উঠবে, কবে তাদের প্রতিও দেখানো হবে সমান সংবেদনশীলতা।

0 মন্তব্যসমূহ