সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে শক্ত হাতে মাঠে গণ্ডাছড়ার মহকুমা শাসক অভিজিৎ সিং যাদব
গন্ডাছড়া প্রতিনিধি, ২ সেপ্টেম্বর:
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাইশ্যাবাড়ী ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাচার, সীমান্তপথে অনুপ্রবেশসহ নানা বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ উঠছে। সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ এবং স্থানীয় রাইশ্যাবাড়ী থানার ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এবার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে মহকুমা প্রশাসন। সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন গণ্ডাছড়া মহকুমার মহকুমা শাসক আইএএস অভিজিৎ সিং যাদব। পূর্ববর্তী পরিদর্শন ও অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বুধবার রাইশ্যাবাড়ী সীমান্তের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা ও সীমান্ত চৌকি (বিওপি) পরিদর্শন করেন তিনি। এদিন সীমান্ত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন মহকুমা শাসক। সীমান্তে নজরদারি, নিয়মিত টহল, স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সীমান্তপথে যাতায়াতের ওপর নজরদারি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার ওপরও জোর দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। রাইশ্যাবাড়ী সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ যাতায়াত ও পাচার নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, সীমান্তের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচল এবং অবৈধ পণ্য পরিবহনের ঘটনাও নজরে এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হচ্ছে না এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। তবে সীমান্ত এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিএসএফের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পাচার কিংবা সন্দেহজনক গতিবিধির ক্ষেত্রে বিএসএফ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর সেই প্রশ্নও উঠছে।
বিশেষ করে রাইশ্যাবাড়ী থানা এলাকার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, সীমান্তে যদি নিয়মিত নজরদারি ও টহল ব্যবস্থা কার্যকর থাকে, তাহলে বারবার একই ধরনের অভিযোগ কেন সামনে আসছে? কোথাও নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে কি না, অথবা দুর্গম এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি প্রয়োজন কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এদিকে পরপর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে মহকুমা শাসক অভিজিৎ সিং যাদবের সরাসরি মাঠে নামাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় এক আধিকারিক নিজে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন তারা। স্থানীয়দের বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টি শুধু বিএসএফ বা পুলিশের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না; প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়েও একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি রয়েছে। মহকুমা শাসকের ধারাবাহিক পরিদর্শনের পর এখন স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহল কতটা বাড়ানো হয়, বিএসএফ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় কতটা জোরদার হয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর অভিযান চালানো হয় কি না সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে প্রশাসনের এই তৎপরতা যদি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তাহলে রাইশ্যাবাড়ী সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে মহকুমা শাসকের দফায় দফায় পরিদর্শনের পরও যদি সীমান্ত এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে বিএসএফ ও পুলিশের নজরদারি ব্যবস্থা এবং তাদের কার্যকারিতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকা কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয় এবং রাইশ্যাবাড়ী সীমান্তকে অবৈধ পাচার ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ থেকে কতটা মুক্ত করা সম্ভব হয়।

0 মন্তব্যসমূহ