ডুম্বুরনগরে ব্লকের সরমা পঞ্চায়েতের উন্নয়ন কাজে বেনজির দুর্নীতি, ফুঁসছে গ্রামবাসী প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে ক্ষোভ
গন্ডাছড়া প্রতিনিধি : গণতন্ত্রের সর্বনিম্ন স্তরে বসে থাকা কিছু ব্যক্তির লাগামহীন দুর্নীতি আজ সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। ডুম্বুরনগর ব্লকের সরমা পঞ্চায়েতে এমনই এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগে সরব হয়েছেন এলাকার আপামর জনসাধারণ। পানীয় জলের সংকট মেটাতে যেখানে ট্যাংক বসানো প্রয়োজন, সেখানে কোনো যুক্তি বা পরিকল্পনা ছাড়াই ভিত্তিহীন স্থানে জলের ট্যাংক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আরও ভয়ংকর বিষয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক 'ওয়ার্ক ডিটেইলস' বোর্ড যেখানে খরচের সম্পূর্ণ হিসাব জনসমক্ষে থাকার কথা তা সম্পূর্ণরূপে গায়েব। প্রশ্ন উঠছে, লুকোনোর মতো কী আছে এই কাজে? পঞ্চায়েত অফিসের সামনে পার্ক ঘিরে প্রায় ৩০ মিটার দীর্ঘ একটি দেওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর চোখে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। এখানেও কোনো সরকারি বোর্ড টাঙিয়ে ব্যয়ের বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি যা স্বচ্ছতার নামে প্রহসন বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত সচিবের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী কিছু স্থানীয় নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং শৌচালয় বণ্টনে ব্যাপক স্বজনপোষণ ও আর্থিক অনিয়ম চালানোর অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা। প্রকৃত প্রাপকরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন, আর সুবিধা পাচ্ছেন 'ঘনিষ্ঠ মহল' এমনই অভিযোগ এলাকাজুড়ে। ডুম্বুরনগরের সচেতন নাগরিকরা স্পষ্ট ভাষায় দাবি জানিয়েছেন সরকারি অর্থের সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে জনগণের করের টাকায় গড়ে ওঠা এই প্রকল্পগুলোর প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা? উত্তর খুঁজছে গোটা সরমা পঞ্চায়েত এলাকা।

0 মন্তব্যসমূহ