গণ্ডাছড়ায় নদীতে ভাসমান লাশ, লাশ উদ্ধারের পর সামনে এলো দুই যুবকের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পরিবারের দাবি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত

গণ্ডাছড়ায় নদীতে ভাসমান লাশ, লাশ উদ্ধারের পর সামনে এলো দুই যুবকের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পরিবারের দাবি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত


গণ্ডাছড়া, ৩ সেপ্টেম্বর: বঙ্করঘাটের জলে গলায় ইটবস্তা বাঁধা অবস্থায় ভেসে ওঠা অজ্ঞাতপরিচয় লাশের রহস্য পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও অন্ধকারেই ঢাকা। আর এই রহস্যের মধ্যেই সামনে এসেছে এক নতুন উদ্বেগজনক তথ্য গন্ডাছড়া কালাঝারির শান্তনু চৌধুরী রিয়াং এবং মল্লিকপাড়ার তাপস দাস, এই দুই যুবক মৃতদেহ উদ্ধারের আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বলে দাবি পরিবারের । প্রথমদিকে পরিবার ভেবেছিল, হয়তো কোনো কাজে বা কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন, শীঘ্রই ফিরে আসবেন তাই তখন থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করার প্রয়োজন মনে করেননি তাঁরা। কিন্তু নদীতে অজ্ঞাতপরিচয় লাশ ভেসে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশঙ্কা আর সন্দেহ চেপে বসে পরিবারের মনে, আর এখন তাঁরা ছুটছেন থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করতে। ৩০ আগস্ট রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের নজরে প্রথম আসে মৃতদেহটি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃত দেহ উদ্ধার করতে করতে গড়িয়ে যায় রাত প্রায় দশটা এই দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে প্রথম থেকেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। জল থেকে দেহ উদ্ধারের পর দেখা যায়, গলায় বাঁধা বস্তায় রয়েছে তিনটি ইট হত্যার সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে স্থানীয়দের মনে। মুখাবয়ব শনাক্তের অযোগ্য অবস্থায় থাকায় শুধু পোশাক দেখেই প্রাথমিক অনুমান, মৃত ব্যক্তি পুরুষ। দেহ ততক্ষণে পচে-গলে বিকৃত, আর গণ্ডাছড়া মহকুমায় মৃতদেহ সংরক্ষণের ন্যূনতম পরিকাঠামোও নেই ফলে বাধ্য হয়ে মাটিচাপা দিতে হয়েছে পুলিশকে। ভবিষ্যৎ তদন্তের জন্য শুধু সংগৃহীত রয়েছে ডিএনএ নমুনা। কিন্তু পাঁচ দিন পেরিয়েও তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে ক্ষোভ জানাচ্ছেন এলাকাবাসী প্রকৃত মৃত্যুর কারণ কী, মৃতের পরিচয়ই বা কার, তার উত্তর মেলেনি এখনও। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য এখন এই দুই যুবকের নিখোঁজ হওয়া নিয়েই। জানা যাচ্ছে, লাশ উদ্ধারের ঢের আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শান্তনু ও তাপস। কিন্তু পরিবার তখন বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিল মনে করেছিল হয়তো কোনো কাজে গিয়েছেন, ফিরে আসবেন নিজে থেকেই। সেই কারণেই তখন থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হননি কেউ। কিন্তু নদীতে গলায় ইটবস্তা বাঁধা অজ্ঞাতপরিচয় লাশ ভেসে ওঠার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায় আতঙ্ক আর সন্দেহ জেঁকে বসে পরিবারের মনে, আর তখনই তাঁরা ছুটে যান নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করতে। এই ঘটনাক্রম স্বাভাবিকভাবেই জন্ম দিচ্ছে নতুন প্রশ্নের নদীতে ভেসে ওঠা অজ্ঞাতপরিচয় লাশ আর এই দুই যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কি সত্যিই একসূত্রে বাঁধা? পুলিশ এখনও সরাসরি কোনো সম্পর্কের কথা স্বীকার করেনি, কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও জল্পনা দুই-ই বাড়ছে সমান তালে। এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি প্রশাসনিক গড়িমসি ছেড়ে অবিলম্বে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হোক, পাশাপাশি নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধানেও জোরদার তল্লাশি অভিযান চালানো হোক, যাতে পরিবারের উদ্বেগ ও এলাকার আতঙ্কের অবসান ঘটে। তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা যত বাড়ছে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও ততই তীব্র হচ্ছে। গোটা গণ্ডাছড়া মহকুমা এখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ছায়ায় ঢাকা রহস্যের জটই বা কবে খুলবে, সেই উত্তরের অপেক্ষায় গোটা জনপদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ