সরমা পঞ্চায়েত ও কবিগুরু PM শ্রী বিদ্যালয় ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি অর্থের হিসাব কোথায়? উঠছে একাধিক প্রশ্ন

সরমা পঞ্চায়েত ও কবিগুরু PM শ্রী বিদ্যালয় ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি অর্থের হিসাব কোথায়? উঠছে একাধিক প্রশ্ন

গণ্ডাছড়া, ধলাই:উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে, প্রকল্পের পর প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে—কিন্তু সেই অর্থের কতটা বাস্তবে মানুষের কাজে লাগছে? কাজের মানই বা কেমন? আর প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার ও ব্যয়ের হিসাব কোথায়? ডুম্বুরনগর ব্লকের সরমা পঞ্চায়েত এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ PM শ্রী দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়কে ঘিরে ওঠা একাধিক অনিয়মের অভিযোগে এখন এই প্রশ্নগুলিই জোরালো হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং কাজের মান নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে পঞ্চায়েত সচিবের ভূমিকা এবং শাসকদলের একাংশের নেতাদের কথিত প্রভাব। এমনকি পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শুধু পঞ্চায়েত নয়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ PM শ্রী দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের SMC কমিটির আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। সরকারি অর্থে কাজ হলে সেই অর্থ কোথায় খরচ হয়েছে, কোন কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, বাস্তবে কতটা কাজ হয়েছে এবং তার হিসাব কোথায়—এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব দাবি করছেন তাঁরা।

অভিযোগ উঠলেই কি তদন্ত হবে না?

স্থানীয়দের বক্তব্য, অভিযোগকে রাজনৈতিক রং না দিয়ে গত কয়েক বছরের প্রকল্পের অনুমোদন, বরাদ্দ, টেন্ডার/ওয়ার্ক অর্ডার, বিল-ভাউচার, মাপজোকের নথি এবং বাস্তবে সম্পন্ন কাজ সরেজমিনে যাচাই করা হোক। সরকারি অর্থের বিন্দুমাত্র অপব্যবহার হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে। এদিকে, ডুম্বুরনগর ব্লক প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতদিন ধরে যদি প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি কোথায় ছিল? ব্লকের কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথিত যোগসাজশের অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, সরমা পঞ্চায়েত ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ PM শ্রী বিদ্যালয়ের গত কয়েক বছরের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে আনা হোক। পাশাপাশি SMC-র আর্থিক লেনদেনও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হোক।

প্রশ্ন একটাই উন্নয়নের নামে যদি সরকারি অর্থ খরচ হয়, তাহলে সেই অর্থের হিসাব দিতে আপত্তি কোথায়? অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার হোক, আর অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে সরমা পঞ্চায়েত সচিব, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিডিও এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ তার হিসাব জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনে কি না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ