রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের কৃতি ক্রীড়াবিদরা ফের একবার সাফল্যের মুখ দেখলেন খেলার ময়দানে।

 রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের কৃতি ক্রীড়াবিদরা ফের একবার সাফল্যের মুখ দেখলেন খেলার ময়দানে।

সম্প্রতি আগরতলার ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের বক্সিং হলে আয়োজিত রাজ্য ও জাতীয় স্তরের এক প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত প্রদর্শন করে একাধিক পদক অর্জন করেছে ‘ইউনিফাইড মার্শাল আর্টস একাডেমি’-র কিক-বক্সিং ও মার্শাল আর্টস খেলোয়াড়রা। ভিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিযোগীদের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের পর এই সাফল্য ছিনিয়ে এনে তাঁরা যেমন রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, তেমনই স্থানীয় ক্রীড়ামহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজধানীর আগরতলাস্থিত ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের বক্সিং হলে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ‘সিএসডি ফাউন্ডেশন ইন কোলাবরেশন উইথ অল ত্রিপুরা অ্যামেচার মুয়াতে অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। মূল ইভেন্টটি ছিল ‘সিএসডি রামবল কোয়েস্ট ৩.০ ন্যাশনাল লেভেল ক্যাশ অ্যাওয়ার্ড ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ’। যেখানে বিশেষভাবে কে-ওয়ান কিক-বক্সিং (অ্যামেচার) ইভেন্টে নিজেদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়েছেন একাডেমিটির লড়াকু প্রতিযোগীরা।

এই প্রতিযোগিতায় রাজ্যের খেলোয়াড়রা বিভিন্ন ওজন বিভাগে অংশ নিয়ে দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, আন্ডার-১৬ এবং ৫৪ কেজি ক্যাটাগরিতে রণবীর সিংহ ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন। অন্যদিকে, আন্ডার-১৮ এবং ৫১ কেজি ক্যাটাগরিতে জসুহা ডাংশু ব্রোঞ্জ পদক নিজের ঝুলিতে পুড়েছেন। পাশাপাশি, ১৯ বছরের ঊর্ধ্বে এবং ৪৮ কেজি ক্যাটাগরিতে জয়া দেববর্মা দুর্দান্ত লড়াই করে রূপো বা সিলভার পদক অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে আন্ডার-১৮ এবং ৫০ কেজি ক্যাটাগরিতে জ্যোতি সিনহা আরও একটি রূপো বা সিলভার পদক জয় করে সাফল্যের মুকুট চওড়া করেছেন। উদীয়মান এই তরুণ খেলোয়াড়দের এমন উজ্জ্বল সাফল্যে গর্বিত তাঁদের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলোয়াড়দের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক প্রশিক্ষণ। ‘ইউনিফাইড মার্শাল আর্টস একাডেমি’-র কর্ণধার তথা চতুর্থ ড্যান ব্ল্যাক বেল্ট বিশিষ্ট অভিজ্ঞ কোচ অভিষেক বিশ্বাস এই পুরো প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করছেন। তাঁর নিখুঁত টেকনিক এবং সঠিক গাইডলাইনের ফলেই আজ এই ক্ষুদে ও তরুণ ক্রীড়াবিদরা জাতীয় স্তরের মঞ্চে নিজেদের জাত চেনাতে সক্ষম হয়েছেন।

আগামী দিনে এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আরও বড় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বর ২০২৬ মাসে মহারাষ্ট্রের মুম্বইতে আয়োজিত হতে চলেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়া লেভেল প্রো-সান্ডা চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের দরবারে রাজ্যের নাম আরও উঁচুতে তুলে ধরতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন একাডেমিটির খেলোয়াড় ও কোচ।

তবে এত সব সাফল্যের মাঝেও প্রকাশ্যে এসেছে এক অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগের চিত্র। একাডেমি ও খেলোয়াড়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ১৬ জুন একাডেমিটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি বা প্রশাসনিক পর্যায় থেকে কোনো ধরনের আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য মেলেনি। বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কিংবা আশ্বাস মিললেও বাস্তবে শুধুমাত্র স্থানীয় একজন বিধায়কের কাছ থেকে নামমাত্র বা সামান্য কিছু সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো বড় সাহায্যই জোটে না। এ ধরনের উদাসীনতা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দেওয়ার উপক্রম করে। পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সাহায্যের অভাবে অনেক সময় উদীয়মান খেলোয়াড়রা তাঁদের প্রতিভা পুরোপুরি বিকশিত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। সরকারি কিংবা ক্রীড়া দপ্তরের তরফ থেকে যদি এই ধরনের উদীয়মান মার্শাল আর্টস একাডেমিগুলোর প্রতি একটু সদয় দৃষ্টি দেওয়া হয় এবং উপযুক্ত সাহায্য করা হয়, তবে আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বহু সোনা ও রূপোর পদক ছিনিয়ে আনতে পারেন ত্রিপুরার এই তরুণ কৃতি সন্তানেরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ